ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৭, একই পরিবারের ৪ জন

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২৩৯ Time View

ময়মনসিংহের রমহতপুর বাইপাস সড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ নগরীর রমহতপুর বাইপাস সড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। তারা একই পরিবারের সদস্য।

জানা গেছে, জামালপুর থেকে গাজীপুর যাওয়ার পথে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি সরিয়ে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। সিএনজির ভেতর থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষে অটোরিকশাটি এমনভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় যে ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শী নাজিম উদ্দীন জানান, জুমার নামাজে যাওয়ার সময় তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা বাসটি সরিয়ে অটোরিকশার ভেতর থেকে হতাহতদের বের করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রমহতপুর বাইপাস সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে রেকার দিয়ে জব্দ করেছে। তবে বাসের চালক ও সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তারা বাস রেখে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ৭, একই পরিবারের ৪ জন

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহ নগরীর রমহতপুর বাইপাস সড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। তারা একই পরিবারের সদস্য।

জানা গেছে, জামালপুর থেকে গাজীপুর যাওয়ার পথে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসটি সরিয়ে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। সিএনজির ভেতর থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষে অটোরিকশাটি এমনভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় যে ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে উদ্ধারকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রত্যক্ষদর্শী নাজিম উদ্দীন জানান, জুমার নামাজে যাওয়ার সময় তিনি বিকট শব্দ শুনতে পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা বাসটি সরিয়ে অটোরিকশার ভেতর থেকে হতাহতদের বের করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রমহতপুর বাইপাস সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইলফোনসহ বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে রেকার দিয়ে জব্দ করেছে। তবে বাসের চালক ও সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তারা বাস রেখে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।