ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
এনআইডি সংশোধনে প্রবাসীদের জমা দিতে হবে ভিসার কপি দেশে আসছে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন, সহজ হবে ক্যান্সার চিকিৎসা- স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিম-৪-এর অভিযান, রাজারামপুর-নয়াটোলায় সরানো হলো জমে থাকা পানি শরীর নয়, শোষণের বাজার ভাঙাই হোক মূল লক্ষ্য শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে খাদ্যতালিকায় রাখুন ৬ খাবার পদ্মায় নৌকাবাইচ ঘিরে উৎসব, বাঘায় বসছে ৫০০ দোকানের গ্রামীণ মেলা ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় যা বললেন অপূর্বা মুখিজা চার বছরে জব্দ ৩ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল খাগড়াছড়ি বিজিবি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, নতুন করে হাসপাতালে ১ হাজার ৮৬০ জন শহর পরিষ্কার রাখার সব আয়োজন থাকার পরও ময়লা জমে কেন?

শরীর নয়, শোষণের বাজার ভাঙাই হোক মূল লক্ষ্য

শোষণের নেপথ্যের চক্র শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি।

শহরের কিছু দরজা দিনের আলোয় বন্ধ থাকে, অথচ রাত নামলেই খুলে যায়। বাইরে থেকে সেসব জায়গা সাধারণ ঘর, বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু আড়ালে কোথাও কোথাও গড়ে ওঠে মানুষের অসহায়ত্বকে ঘিরে একটি শোষণের কাঠামো। সেখানে মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে লাভবান হয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে নারী। সমাজও অনেক সময় সহজেই তাকে একটি নেতিবাচক পরিচয়ে চিহ্নিত করে দায় শেষ করে ফেলে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—তার পেছনে থাকা দালাল, পাচারকারী, নিয়ন্ত্রক, আশ্রয়দাতা ও অর্থের জোগানদাতাদের কতটা সামনে আনা হচ্ছে? দৃশ্যমান ব্যক্তিকে দায়ী করা সহজ হলেও অপরাধের নেপথ্যের কাঠামো শনাক্ত করাই আসল চ্যালেঞ্জ।

তাই আলোচনার কেন্দ্রও বদলানো জরুরি। কতজন নারী এমন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন—শুধু এই প্রশ্নে আটকে না থেকে জানতে হবে, কতজন মানুষ শোষণের শিকার হচ্ছেন, কারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এই অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

দারিদ্র্য, প্রতারণা, মানবপাচার, পারিবারিক সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব কিংবা নানা ধরনের প্রলোভন একজন মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এ কারণে ভুক্তভোগীকে সামাজিকভাবে অপমান করা কোনো সমাধান নয়। বরং এতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থাকার সুযোগ পায়। শোষণের শিকার মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অপরাধের মূল হোতাদের শনাক্ত করাই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় শিশুদের নিরাপত্তা। কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন শোষণের মতো অপরাধের মধ্যে ঠেলে দেওয়া নিছক সামাজিক সমস্যা নয়; এটি গুরুতর অপরাধ। এমন ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, অপরাধী শনাক্তকরণ, আইনি ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে পারে—কোনো একটি চক্র যদি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকে, তাহলে নজরদারির কোথায় ঘাটতি রয়েছে? স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ বা তথ্য পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর পর তা কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাও জরুরি। কারণ অপরাধীরা শুধু আইনের দুর্বলতা নয়, প্রশাসনিক উদাসীনতার সুযোগও নিতে পারে।

কেবল একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা, কয়েকজনকে আটক করা কিংবা বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙতে হবে পুরো নেটওয়ার্ক। মানুষ সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরিবহন, আশ্রয়, নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ লেনদেন—প্রতিটি ধাপের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে অর্থের প্রবাহ অনুসরণ করে নেপথ্যের সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করা জরুরি।

প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে এই ধরনের অপরাধের কৌশলও বদলেছে। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অনলাইন পরিচয়, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার সুযোগ বেড়েছে। ফলে অপরাধ প্রতিরোধেও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও নজরদারি প্রয়োজন। ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক সক্ষমতা ছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার—উচ্ছেদ আর স্থায়ী সমাধান এক নয়। কোনো একটি স্থান বন্ধ করে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো যদি অন্যত্র চলে যায়, তাহলে সমস্যার মূল কাঠামো অক্ষতই থেকে যায়। শুধু ঠিকানা বদলায়। তাই উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, শিক্ষা এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে তারা আবারও একই ধরনের শোষণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

এ ক্ষেত্রে সমাজের দায়িত্বও কম নয়। কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখলে গুজব ছড়ানো বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে নিরাপদ উপায়ে তথ্য জানানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার। দ্রুত তথ্য যাচাই ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক বড় ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

গণমাধ্যমের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করে তাকে দ্বিতীয়বার সামাজিক শাস্তির মুখে ঠেলে দেওয়া সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য হতে পারে না। বরং অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—এই চক্র পরিচালনা করে কারা, অর্থের উৎস কোথায়, কারা লাভবান হচ্ছে এবং আইন প্রয়োগের কোথায় দুর্বলতা রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত এটি শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা, আইন প্রয়োগ এবং সমাজের দায়বদ্ধতারও পরীক্ষা। তাই মানুষের ওপর নয়, শোষণের কাঠামোর ওপর নজর দিতে হবে। যারা মানুষকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের শনাক্ত করতে হবে। যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখে, তার পথ বন্ধ করতে হবে। আর যে নীরবতা অপরাধীদের নিরাপদ রাখে, সেটিও ভাঙতে হবে।

একটি সভ্য সমাজের সাফল্য শুধু কতটি অন্ধকার জায়গা বন্ধ করা গেল, তা দিয়ে মাপা যায় না। বরং কতজন মানুষকে শোষণের শিকার হওয়ার আগেই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সুযোগ দেওয়া গেল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অন্ধকারের দরজা বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে তার চেয়েও জরুরি—সেই দরজার চাবি কার হাতে, কারা এর পেছনে অর্থ ও নিয়ন্ত্রণ জোগায় এবং কারা বছরের পর বছর এর সুবিধা নেয়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। শোষণের বাজার ভাঙতে হলে তাই দৃশ্যমান নয়, নেপথ্যের শক্তিকেও চিহ্নিত করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনআইডি সংশোধনে প্রবাসীদের জমা দিতে হবে ভিসার কপি

শরীর নয়, শোষণের বাজার ভাঙাই হোক মূল লক্ষ্য

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

শহরের কিছু দরজা দিনের আলোয় বন্ধ থাকে, অথচ রাত নামলেই খুলে যায়। বাইরে থেকে সেসব জায়গা সাধারণ ঘর, বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু আড়ালে কোথাও কোথাও গড়ে ওঠে মানুষের অসহায়ত্বকে ঘিরে একটি শোষণের কাঠামো। সেখানে মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে লাভবান হয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে নারী। সমাজও অনেক সময় সহজেই তাকে একটি নেতিবাচক পরিচয়ে চিহ্নিত করে দায় শেষ করে ফেলে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—তার পেছনে থাকা দালাল, পাচারকারী, নিয়ন্ত্রক, আশ্রয়দাতা ও অর্থের জোগানদাতাদের কতটা সামনে আনা হচ্ছে? দৃশ্যমান ব্যক্তিকে দায়ী করা সহজ হলেও অপরাধের নেপথ্যের কাঠামো শনাক্ত করাই আসল চ্যালেঞ্জ।

তাই আলোচনার কেন্দ্রও বদলানো জরুরি। কতজন নারী এমন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন—শুধু এই প্রশ্নে আটকে না থেকে জানতে হবে, কতজন মানুষ শোষণের শিকার হচ্ছেন, কারা তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এই অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

দারিদ্র্য, প্রতারণা, মানবপাচার, পারিবারিক সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব কিংবা নানা ধরনের প্রলোভন একজন মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এ কারণে ভুক্তভোগীকে সামাজিকভাবে অপমান করা কোনো সমাধান নয়। বরং এতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থাকার সুযোগ পায়। শোষণের শিকার মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং অপরাধের মূল হোতাদের শনাক্ত করাই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় শিশুদের নিরাপত্তা। কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ককে যৌন শোষণের মতো অপরাধের মধ্যে ঠেলে দেওয়া নিছক সামাজিক সমস্যা নয়; এটি গুরুতর অপরাধ। এমন ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, অপরাধী শনাক্তকরণ, আইনি ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে পারে—কোনো একটি চক্র যদি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকে, তাহলে নজরদারির কোথায় ঘাটতি রয়েছে? স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ বা তথ্য পাওয়ার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর পর তা কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাও জরুরি। কারণ অপরাধীরা শুধু আইনের দুর্বলতা নয়, প্রশাসনিক উদাসীনতার সুযোগও নিতে পারে।

কেবল একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা, কয়েকজনকে আটক করা কিংবা বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙতে হবে পুরো নেটওয়ার্ক। মানুষ সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরিবহন, আশ্রয়, নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ লেনদেন—প্রতিটি ধাপের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে অর্থের প্রবাহ অনুসরণ করে নেপথ্যের সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করা জরুরি।

প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে এই ধরনের অপরাধের কৌশলও বদলেছে। ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অনলাইন পরিচয়, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার সুযোগ বেড়েছে। ফলে অপরাধ প্রতিরোধেও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও নজরদারি প্রয়োজন। ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক সক্ষমতা ছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার—উচ্ছেদ আর স্থায়ী সমাধান এক নয়। কোনো একটি স্থান বন্ধ করে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মানুষগুলো যদি অন্যত্র চলে যায়, তাহলে সমস্যার মূল কাঠামো অক্ষতই থেকে যায়। শুধু ঠিকানা বদলায়। তাই উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, শিক্ষা এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে তারা আবারও একই ধরনের শোষণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

এ ক্ষেত্রে সমাজের দায়িত্বও কম নয়। কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখলে গুজব ছড়ানো বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে নিরাপদ উপায়ে তথ্য জানানোর ব্যবস্থা থাকা দরকার। দ্রুত তথ্য যাচাই ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক বড় ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

গণমাধ্যমের ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করে তাকে দ্বিতীয়বার সামাজিক শাস্তির মুখে ঠেলে দেওয়া সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য হতে পারে না। বরং অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—এই চক্র পরিচালনা করে কারা, অর্থের উৎস কোথায়, কারা লাভবান হচ্ছে এবং আইন প্রয়োগের কোথায় দুর্বলতা রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত এটি শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের সক্ষমতা, আইন প্রয়োগ এবং সমাজের দায়বদ্ধতারও পরীক্ষা। তাই মানুষের ওপর নয়, শোষণের কাঠামোর ওপর নজর দিতে হবে। যারা মানুষকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের শনাক্ত করতে হবে। যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে টিকিয়ে রাখে, তার পথ বন্ধ করতে হবে। আর যে নীরবতা অপরাধীদের নিরাপদ রাখে, সেটিও ভাঙতে হবে।

একটি সভ্য সমাজের সাফল্য শুধু কতটি অন্ধকার জায়গা বন্ধ করা গেল, তা দিয়ে মাপা যায় না। বরং কতজন মানুষকে শোষণের শিকার হওয়ার আগেই নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সুযোগ দেওয়া গেল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অন্ধকারের দরজা বন্ধ করা প্রয়োজন। তবে তার চেয়েও জরুরি—সেই দরজার চাবি কার হাতে, কারা এর পেছনে অর্থ ও নিয়ন্ত্রণ জোগায় এবং কারা বছরের পর বছর এর সুবিধা নেয়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। শোষণের বাজার ভাঙতে হলে তাই দৃশ্যমান নয়, নেপথ্যের শক্তিকেও চিহ্নিত করতে হবে।