
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী রুকন উদ্দিন হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়নি। হত্যাকারীদের শনাক্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
৩০ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি চলাকালে সড়কের ওপর ফুটবল খেলে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সড়কে ফুটবল খেলার দৃশ্য এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আন্দোলনকারীরা স্লোগান দেন। তাঁরা রুকন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহত রুকন উদ্দিন কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়ির কৃষক সাত্তার মিয়ার ছেলে।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ঘটনার পরদিন ১ অক্টোবর ভৈরব থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু প্রায় এক মাসেও পুলিশ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। তাঁদের দাবি, গত শুক্রবার স্থানীয় লোকজন মানববন্ধনের উদ্যোগ নিলে ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর সফরের কথা উল্লেখ করে তা স্থগিত করান। একই সঙ্গে তিনি এক সপ্তাহের মধ্যে রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
বিক্ষোভকারীরা আরও জানান, থানা-পুলিশ ব্যর্থ হওয়ায় গত ২৪ অক্টোবর মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তাঁরা ঘোষণা দেন।
কর্মসূচি শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা পর ওসি মাহবুবুর রহমান পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, থানা-পুলিশ ও ডিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। আসামি গ্রেপ্তারে আন্দোলনকারীদের কিছুদিন সময় দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। পরে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত রুকনের বাবা সাত্তার মিয়া, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন মিয়া, জেলা ছাত্রদল নেতা রবিন মিয়া ও মাওলানা আজিজ মিয়া প্রমুখ।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পূর্ব নয়াহাটি এলাকার সরকারবাড়িতে গোয়ালঘরের পাশে একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত রুকন উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এক মাস পার হলেও এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়নি।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 















