
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাগলী স্থল শুল্ক স্টেশনে নাব্য সংকটের কারণে চুনাপাথর আমদানি ও পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একসময় সম্ভাবনাময় এই বাণিজ্যকেন্দ্রে এখন ব্যবসায় ধস নেমেছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাগলী স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে শুরুতে ভারত থেকে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে চুনাপাথর আমদানি করতেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৩৫০ জন আমদানিকারক। আমদানি করা চুনাপাথর রঙ্গাছড়া নদীপথে এনে বড় নৌকায় তোলা হয়। পরে এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন এলাকার সিমেন্ট কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে সরবরাহ করা হয়। ভবন নির্মাণের কংক্রিট তৈরিতেও চুনাপাথর ব্যবহৃত হয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই শুল্ক স্টেশন থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনের সময় ও সুযোগ দুটোই সীমিত হয়ে পড়েছে।
বাগলী চুনাপাথর স্থল শুল্ক স্টেশন আমদানিকারক সমিতির কোষাধ্যক্ষ হাজি আব্দুল আলিম বলেন, এ স্টেশন থেকে সরকার বছরে ১০০ কোটির বেশি টাকা রাজস্ব পায়। কিন্তু চুনাপাথর আমদানি ও পরিবহনে সড়ক ও নদীপথ—দুই ক্ষেত্রেই নানা সমস্যা রয়েছে। নদী খনন না হওয়ায় বছরের প্রায় ১০ মাস চুনাপাথর পরিবহন বন্ধ রাখতে হয়।
তিনি বলেন, নদীপথে পণ্য পরিবহন করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের ১০টি ডাম্পে চুনাপাথর মজুত রাখতে হয়। পরে বর্ষার দুই মাসে এসব পণ্য বিক্রি করতে হয়। ব্যবসা ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সচল রাখতে রঙ্গাছড়া নদী খনন জরুরি।
আমদানিকারক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন জানান, ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রঙ্গাছড়া নদী দিয়ে বছরের প্রায় ১০ মাস পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হতো। কিন্তু মেঘালয় পাহাড়ের বিভিন্ন ছড়া থেকে নেমে আসা বালু জমে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে বছরে মাত্র দুই মাস চুনাপাথর পরিবহন করা যায়।
তিনি বলেন, নদীটি খননের ব্যবস্থা করা হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। এ জন্য দ্রুত খননকাজ শুরুর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা।
অধিকার ডেস্কঃ 
























