
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে পাকা বোরোধান তলিয়ে গিয়ে দেখা দিয়েছে কৃষকের আর্তনাদ। রাতভর বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকালে ঘুম ভেঙে পানির নিচে কষ্টার্জিত সোনালি ফসল দেখে অনেক কৃষক কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাওরজুড়ে এখন হতাশা, উৎকণ্ঠা আর বাঁচার আকুতি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে প্রথমে নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও রাতভর টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। বিশেষ করে নলুয়ার হাওর, মইয়া ও পিংলার হাওরসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে চলে যায়।
নলুয়ার হাওরের দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সারদা চরন দাস জানান, ১৬ কেদার জমিতে আবাদ করলেও মাত্র এক কেদার ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। শ্রমিক সংকট আর বৃষ্টির কারণে বাকি সব জমি পানিতে ডুবে গেছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “দারদেনা করে চাষ করেছি, এখন সব শেষ। এই ফসলই ছিল বাঁচার ভরসা।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, শ্রমিক সংকট, জলাবদ্ধতা ও অকার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা আগেই বিপাকে ছিলেন। তার ওপর টানা বৃষ্টি যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে।
সাবেক ইউপি সদস্য রনধির দাস নান্টু জানান, নলুয়ার হাওরে বিপুল পরিমাণ জমির ধান এখনো কাটা হয়নি। তার ধারণা, অন্তত দেড় থেকে দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাওরপাড়ের কৃষক এখলাছ মিয়া, মধু মিয়া, গৌরাঙ্গ দাস ও হরিন্দ্র দাসসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধই এবার ‘মরণফাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে চোখের সামনে। ভুরাখালি গ্রামের তরুণ সমাজকর্মী মিনহাজুর রহমান ওলিদ বলেন, শত শত কৃষক পরিবারে নেমে এসেছে হতাশা। ধান শুকানোর খলাও ডুবে গেছে। যারা ধান কেটেছেন তারাও বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে অতিবৃষ্টিতে জগন্নাথপুর উপজেলার আরও কয়েকটি হাওরে আধাপাকা ফসলও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, উপজেলায় এবার প্রায় ২০ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নলুয়ার হাওরের প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হচ্ছে, তবে এখনই নির্দিষ্ট পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকার মাধ্যমে ধান উত্তোলনের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন জানান,“আমি হাওরে অবস্থান করছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে।” হাওরের কৃষকরা এখন সরকার ও প্রশাসনের জরুরি সহায়তা চান। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পানি নামার ব্যবস্থা না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















