
নাটোর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ঔষধি গ্রামে কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে রাতভর অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আমিরগঞ্জ বাজার সংলগ্ন মসজিদ ও গোরস্থানের দক্ষিণ পাশে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নাটোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ আহমেদ। অভিযানের সময় পুকুর খননের কাজে ব্যবহৃত ৪টি ব্যাটারি জব্দ করা হয় এবং খননকাজে ব্যবহৃত ভেকু (খননযন্ত্র) এর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম বিনষ্ট করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে অবৈধভাবে কৃষিজমি কেটে পুকুর খননের অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের আলোকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিক করিম হাজি মৃত্যুবরণ করার পর তার তিন মেয়ের মালিকানাধীন জমিতে প্রভাবশালী একটি চক্র অবৈধভাবে পুকুর খনন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা মো. আশরাফুল ও শাহীনসহ কয়েকজন ব্যক্তি এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।
অভিযানে আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঔষধি গ্রামের এ জমিগুলো দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অবৈধভাবে পুকুর খননের ফলে একদিকে যেমন আবাদি জমি কমছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও ভূ-প্রকৃতির ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ভূমি ক্ষয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানায়, কৃষিজমি রক্ষা আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মাটি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাস্তবায়নে অবৈধ পুকুর খনন, মাটি কাটা ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা কৃষিজমি নষ্ট করে অবৈধভাবে পুকুর খনন কিংবা মাটি বিক্রি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরহাদ আহমেদ বলেন,
“কৃষিজমি ধ্বংস করে কোনোভাবেই অবৈধ পুকুর খনন করতে দেওয়া হবে না। পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সর্বক্ষণিক কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
এ অভিযানে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে অবৈধ পুকুর খননের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাজেদুর রহমান, নাটোর 



















