
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে যেন মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হলো দুই গ্রাম। জ্বালানি তেল নেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা গড়ায় ভয়াবহ সংঘর্ষে, আর সেই সংঘর্ষে কেঁপে ওঠে এলাকা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে। অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন, এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের বাররশিয়া ও দাদনচক হলমোড় এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষ চলাকালে ৪ থেকে ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। দেশীয় অস্ত্র, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া আর বিস্ফোরণে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে বাররশিয়া গ্রামের গাজলুর রহমান, হেলাল উদ্দিন ও জসিম উদ্দিনের। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, মির্জা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নেওয়া নিয়ে প্রথমে দুই গ্রামের দুই যুবকের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। সোমবার শুরু হওয়া উত্তেজনা মঙ্গলবার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া পর্যন্ত গড়ায়, আর বুধবার তা রূপ নেয় সরাসরি সংঘর্ষে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, বন্ধ হয়ে পড়ে সড়ক চলাচলও।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল সদর) ইয়াসিন আরাফাত ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) একরামুল হক। পুলিশের দুটি টিম দুই পক্ষকে আলাদা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসিন আরাফাত বলেন,“খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।”
সংঘর্ষের পর মির্জা ফিলিং স্টেশন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম জানান,“যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুর্লভপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান গোলাম আযম-এর নেতৃত্বে দুই পক্ষের ৫ জন করে ১০ প্রতিনিধি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠক চলছিল।
‘দুর্লভপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজম আলী বলেন,“খুব ছোট একটা বিষয় থেকে বড় সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত স্থায়ী সমাধান হোক।”চিকিৎসক ডা. মঞ্জিলা আক্তার জুঁই জানান, আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কীভাবে দু’গ্রাম সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে? ককটেল এলো কোথা থেকে? কারা উসকানি দিল?— এসব প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
তেলের লাইনের তুচ্ছ বিরোধ থেকে ককটেল বিস্ফোরণ— শিবগঞ্জের এ ঘটনা শুধু গ্রাম্য সংঘর্ষ নয়, গ্রামীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক অস্থিরতারও বড় সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 



















