ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

দুর্গাপুরে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ডুবেছে পাকা বোরো- দিশেহারা কৃষক

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক কৃষক কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কোথাও কোথাও ধান পচে যেতে শুরু করেছে, আবার কাটা ধানও শুকাতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে পাকা বোরো ধান মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে ফসল। হঠাৎ এই জলাবদ্ধতায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিলাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে নেমে কৃষকেরা মরিয়া হয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কোথাও ধান পানিতে ডুবে পচতে শুরু করেছে, আবার কোথাও কাটা ধান শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বোরো মৌসুমের এই ফসলই তাদের বছরের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে সেই ফসল রক্ষা করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের চিনাকুড়িবিল এলাকার কৃষক ফজলুল ইসলাম বলেন, “ছয় আড়া জমিতে ধান করেছিলাম। মাত্র এক আড়া কেটে তুলতে পেরেছি, বাকি পাঁচ আড়া এখনও পানির নিচে। কাটা ধানও বৃষ্টির কারণে শুকাতে পারছি না—নষ্ট হওয়ার উপক্রম।”

একই এলাকার কৃষক আব্দুল হেকিম বলেন, “পাকা ধান পুরো পানির নিচে। এখন কাটাও যাচ্ছে না, আবার বৃষ্টি বাড়লে জমিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের জন্য এটা বড় ধাক্কা। সরকারি সহায়তা না পেলে টিকে থাকা কঠিন।”

রফিক মিয়া নামের আরেক কৃষক জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন তিনি। এখন ফসল হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। “সবকিছুই এই ফসলের ওপর নির্ভর ছিল,”—বলেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে দুর্গাপুর উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টরের ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ১৪৪ হেক্টর জমির ধান বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত ওঠানামা করছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বিজয়পুর পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫ দশমিক ৮১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ৩টার দিকে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৭৯ মিটারে পৌঁছায়। একই সময়ে দুর্গাপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৪ দশমিক ১১ মিটার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ মিটার নিচে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। যদিও পানি এখনও বিপদসীমার নিচে, তবে দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস বলেন, “সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে পানির নিচে থাকা ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে, অন্যদিকে কেটে তোলা ধান শুকাতে না পারায় ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা এবং কৃষিঋণ পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বাড়ছে, ফলে আগাম প্রস্তুতি ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

দুর্গাপুরে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ডুবেছে পাকা বোরো- দিশেহারা কৃষক

প্রকাশের সময়ঃ ১০:০৩:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে পাকা বোরো ধান মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নষ্ট হতে শুরু করেছে ফসল। হঠাৎ এই জলাবদ্ধতায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বিলাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে নেমে কৃষকেরা মরিয়া হয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন। কোথাও ধান পানিতে ডুবে পচতে শুরু করেছে, আবার কোথাও কাটা ধান শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বোরো মৌসুমের এই ফসলই তাদের বছরের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে সেই ফসল রক্ষা করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের চিনাকুড়িবিল এলাকার কৃষক ফজলুল ইসলাম বলেন, “ছয় আড়া জমিতে ধান করেছিলাম। মাত্র এক আড়া কেটে তুলতে পেরেছি, বাকি পাঁচ আড়া এখনও পানির নিচে। কাটা ধানও বৃষ্টির কারণে শুকাতে পারছি না—নষ্ট হওয়ার উপক্রম।”

একই এলাকার কৃষক আব্দুল হেকিম বলেন, “পাকা ধান পুরো পানির নিচে। এখন কাটাও যাচ্ছে না, আবার বৃষ্টি বাড়লে জমিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের জন্য এটা বড় ধাক্কা। সরকারি সহায়তা না পেলে টিকে থাকা কঠিন।”

রফিক মিয়া নামের আরেক কৃষক জানান, ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন তিনি। এখন ফসল হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। “সবকিছুই এই ফসলের ওপর নির্ভর ছিল,”—বলেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে দুর্গাপুর উপজেলায় মোট ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টরের ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ১৪৪ হেক্টর জমির ধান বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত ওঠানামা করছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বিজয়পুর পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫ দশমিক ৮১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ৩টার দিকে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৭৯ মিটারে পৌঁছায়। একই সময়ে দুর্গাপুর পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৪ দশমিক ১১ মিটার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৯ মিটার নিচে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। যদিও পানি এখনও বিপদসীমার নিচে, তবে দ্রুত বৃদ্ধির প্রবণতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস বলেন, “সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে পানির নিচে থাকা ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে, অন্যদিকে কেটে তোলা ধান শুকাতে না পারায় ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রণোদনা এবং কৃষিঋণ পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বাড়ছে, ফলে আগাম প্রস্তুতি ও কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।