
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা এক যুবককে চোরাইকৃত মালামালসহ আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আটকে রেখে কালকিনি থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১০ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মৌলভীকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম রাকিব মাল (২২)। তিনি উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীকান্দি গ্রামের আল আমিন মালের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিব মাল দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিকবার তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও প্রমাণের অভাবে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি মৌলভীকান্দি ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামে ধারাবাহিকভাবে ঘরবাড়ি ও দোকানে চুরির ঘটনা বেড়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে গভীর রাতে বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও গৃহস্থালি মালামাল চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় সক্রিয় ছিল। এই চক্রের সদস্যরা দিনের বেলায় এলাকায় ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করত এবং গভীর রাতে টার্গেট করা বাড়িতে চুরি চালাত।
রোববার সকালে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে রাকিব মালকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চোরাইকৃত বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেন এলাকাবাসী। পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম ও স্থানীয় ব্যক্তি হাকিম সরদারের নেতৃত্বে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল মাতুব্বর বলেন,
“অনেক দিন ধরে এলাকায় চুরি বেড়ে গিয়েছিল। মানুষ রাতে ঘুমাতে পারত না। আজ হাতে-নাতে আটক হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।”
আরেক বাসিন্দা বলেন,
“চুরি হওয়া অনেক মালামালের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চাই, পুলিশ পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক।”
এদিকে আটক ব্যক্তিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার ও রাতের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
কালকিনি থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আগের কোনো মামলা রয়েছে কিনা এবং তিনি কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চোরাইকৃত মালামালের প্রকৃত মালিক শনাক্তের কাজও চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সম্প্রতি গ্রামাঞ্চলে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা অপরাধ দমনে পুলিশি টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বরিশাল প্রতিনিধিঃ 



















