
ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়া পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে যোগদানের আগেই প্রত্যাহার করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর এসপি পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, তাকে ১০ মে’র মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে তার পদায়নের খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং গণমাধ্যমে তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি কয়েকটি অনুসন্ধানধর্মী প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
এদিকে গত ৭ মে তার নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। রিটে উল্লেখ করা হয়, দুটি হত্যা মামলার আসামি থাকা অবস্থায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একইসঙ্গে তার নিয়োগ বাতিল, সাময়িক বরখাস্ত এবং পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন বিতর্ক প্রশাসনের ভাবমূর্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের পক্ষ থেকেও গণমাধ্যমে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফেনীর সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলার পুলিশ সুপার নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক যাচাই-বাছাই প্রয়োজন ছিল। একইসঙ্গে তারা এ ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও বদলি নিয়ে জনমত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















