ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

রাজশাহীতে ১৬ খাল খনন প্রকল্পের অর্ধেক কাজ শেষ-জেলা প্রশাসক

বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

রাজশাহী জেলায় চলমান খাল খনন কর্মসূচির প্রায় অর্ধেক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, জেলার খাল খনন কার্যক্রমের অগ্রগতি বর্তমানে ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সরকারের জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার বৃহৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নসংক্রান্ত উন্নয়ন কার্যক্রম গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস যৌথভাবে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর আওতায় রাজশাহীতে ১৬টি খাল খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পাঁচটি প্রকল্প এলজিইডি এবং দুটি প্রকল্প বিএমডিএ বাস্তবায়ন করছে। খাল খননের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করেছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে ৬৬৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে।

খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী রাজশাহীর ছয়জন ক্রীড়াবিদকে বিশেষ কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ জেলা পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বিভাগীয় পর্যায়ের খেলা আগামী ১৭ মে শুরু হবে। ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, মার্শাল আর্ট ও সাঁতারসহ মোট আটটি ইভেন্ট এ প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বনায়ন কর্মসূচির বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজশাহীতে জুন মাসে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার এলাকায় বাগান সৃজন করা হবে এবং প্রতি কিলোমিটারে এক হাজার করে গাছ লাগানো হবে।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত জেলায় মোট ৯৩ হাজার ২০০টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনকারী ৮ হাজার ৯০০টি গাছ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, রাজশাহীর ১১৩ জন কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব ঋণ মওকুফ করা হবে।

জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক নাফেয়ালা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম রাজিউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম, বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরা খাতুন এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

রাজশাহীতে ১৬ খাল খনন প্রকল্পের অর্ধেক কাজ শেষ-জেলা প্রশাসক

প্রকাশের সময়ঃ ১১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

রাজশাহী জেলায় চলমান খাল খনন কর্মসূচির প্রায় অর্ধেক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, জেলার খাল খনন কার্যক্রমের অগ্রগতি বর্তমানে ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সরকারের জলাবদ্ধতা নিরসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার বৃহৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নসংক্রান্ত উন্নয়ন কার্যক্রম গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস যৌথভাবে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক জানান, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর আওতায় রাজশাহীতে ১৬টি খাল খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে পাঁচটি প্রকল্প এলজিইডি এবং দুটি প্রকল্প বিএমডিএ বাস্তবায়ন করছে। খাল খননের ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করেছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম ধাপে ৬৬৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে।

খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী রাজশাহীর ছয়জন ক্রীড়াবিদকে বিশেষ কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ জেলা পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বিভাগীয় পর্যায়ের খেলা আগামী ১৭ মে শুরু হবে। ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, মার্শাল আর্ট ও সাঁতারসহ মোট আটটি ইভেন্ট এ প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বনায়ন কর্মসূচির বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজশাহীতে জুন মাসে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার এলাকায় বাগান সৃজন করা হবে এবং প্রতি কিলোমিটারে এক হাজার করে গাছ লাগানো হবে।

তিনি আরও জানান, ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত জেলায় মোট ৯৩ হাজার ২০০টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনকারী ৮ হাজার ৯০০টি গাছ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, রাজশাহীর ১১৩ জন কৃষকের কৃষিঋণ মওকুফের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এসব ঋণ মওকুফ করা হবে।

জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক নাফেয়ালা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম রাজিউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম, বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরা খাতুন এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার।