
নাটোরের লালপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে র্যাব সদস্যরা। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে র্যাব সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে র্যাবের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সোহাগ মাহমুদ (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের নবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক সোহাগ মাহমুদ নবীনগর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে।
লালপুর থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, র্যাব-৫, সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্পের এএসআই মোঃ পারভেজ মুন্সীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল সিভিল পোশাকে নবীনগর এলাকায় মাদক সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে যায়। এলাকায় সম্প্রতি মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগ বেড়ে যাওয়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেন।
এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে করে পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে নবীনগর গ্রামের সোহাগ মাহমুদের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল র্যাব সদস্যদের পথরোধ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
র্যাব সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন র্যাব সদস্যদের মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে র্যাব সদস্য শাহিন হোসেনসহ পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহিন ইসলামের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্য আহত সদস্যদেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি তাদের সঙ্গেও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘটনাস্থল থেকে সোহাগ মাহমুদকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“র্যাব সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আহত র্যাব সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর নবীনগর এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ দাবি করছেন, সিভিল পোশাকে আসায় তারা প্রথমে র্যাব সদস্যদের চিনতে পারেননি। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা এবং হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সাজেদুর রহমান,নাটোর 



















