ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

শরীয়তপুরে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী আটক

আটক আসমা আক্তার। সংগৃহীত ছবি

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ জানায়, নিহত জিয়া সরদার (৪২) মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। তিনি স্ত্রী আসমা আক্তারকে (৩৫) নিয়ে সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। আটক আসমা আক্তারের দাবি, স্বামী প্রায়ই তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার রাতে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তিনি লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে জিয়া সরদার গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ খণ্ডিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে বাসার ভেতরে একটি ড্রামে রাখা হয় কয়েকদিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় অটোরিকশায় করে মরদেহের কিছু অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের কিছু অংশ শরীয়তপুর শহরের পালং স্কুল এলাকার একটি বাসায় নিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও চারটি হাত-পা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, ঘটনাটির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহের উদ্ধারকৃত অংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

শরীয়তপুরে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী আটক

প্রকাশের সময়ঃ ১১:৫৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ জানায়, নিহত জিয়া সরদার (৪২) মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। তিনি স্ত্রী আসমা আক্তারকে (৩৫) নিয়ে সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। আটক আসমা আক্তারের দাবি, স্বামী প্রায়ই তাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার রাতে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তিনি লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে জিয়া সরদার গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ খণ্ডিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে বাসার ভেতরে একটি ড্রামে রাখা হয় কয়েকদিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় অটোরিকশায় করে মরদেহের কিছু অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের কিছু অংশ শরীয়তপুর শহরের পালং স্কুল এলাকার একটি বাসায় নিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও চারটি হাত-পা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, ঘটনাটির সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহের উদ্ধারকৃত অংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।