
মাদারীপুরের কালকিনিতে ভুয়া পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে আসা এক ব্যক্তিকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। ‘ডাক্তার’ পরিচয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় কালকিনি পৌর এলাকার ভুরঘাটা এলাকার ‘এম. আলাউদ্দিন ক্লিনিকে’ অভিযান চালিয়ে সবুজ তালুকদার নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফ উল আরেফীন।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সবুজ তালুকদার মূলত একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে ‘ডাক্তার’ পরিচয়ে রোগী দেখতেন। তার ব্যবহৃত প্যাড, প্রেসক্রিপশন ও ক্লিনিকের সাইনবোর্ডেও ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাধারণ ও অসহায় রোগীদের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন এবং নিজেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা নির্দিষ্ট থাকলেও নিবন্ধিত এমবিবিএস বা বিডিএস চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে চিকিৎসা দেয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফ উল আরেফীন বলেন,
“সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে প্রতারণা করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিত চলবে।”
এদিকে অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রামাঞ্চলে নামধারী ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ প্রায়ই ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য রোগও জটিল আকার ধারণ করছে।
তারা আরও বলেন, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির পাশাপাশি জনগণকে সচেতন হতে হবে। নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ না করারও আহ্বান জানান তারা।
সৈয়দ নুর আহছান, বরিশাল 


















