
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের রিসার্চ কর্মকর্তা ড. মো. রোকনুজ্জামান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করার জোরালো দাবি তুলেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্র বলছে, তিনি নিজে কখনো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করেননি এবং ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে হাজিরাও দেন না। বিষয়টি ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত বুধবার (২৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনলাইন গ্রুপে পাঠানো বার্তায় ড. রোকনুজ্জামান ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরায় সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং একটি সভা আহ্বান করেন। তাঁর বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, হাজিরা ব্যবস্থায় কেউ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন আর কেউ থাকবেন না — এটি গ্রহণযোগ্য নয়। হয় সবাই ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেবেন, নয়তো কেউ নয়। পাশাপাশি নিয়মিত পদোন্নতি বোর্ড গঠন এবং ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের দাবিও তুলে ধরেন তিনি। পরে নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
একাধিক প্রশাসনিক সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু থাকলেও ড. রোকনুজ্জামান শুরু থেকেই এই ব্যবস্থায় নিজেকে নিবন্ধিত করেননি। ফলে তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও তাঁর কোনো ডিজিটাল হাজিরার রেকর্ড তৈরি হয় না।
এর মধ্যে গত ৯ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। কার্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগের অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক ড. রোকনুজ্জামানসহ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এক্সিলেন্সের আরও পাঁচ কর্মকর্তার ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য চায়। তবে ড. রোকনুজ্জামানের কোনো বায়োমেট্রিক রেকর্ড না থাকায় তাঁর তথ্য দুদককে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই ড. রোকনুজ্জামান ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিষয়টি নতুনভাবে আলোচনায় আনছেন।
এ বিষয়ে জানতে ড. রোকনুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বলেন, “ড. রোকনুজ্জামান বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত নন, তাই তিনি অফিসে এলেও ফিঙ্গারপ্রিন্টে হাজিরার রেকর্ড নেই। দুদকের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের কাছে যাদের তথ্য ছিল, কেবল সেগুলোই পাঠানো হয়েছে।”
জুবায়ের আল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধিঃ 


















