ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

রাবিতে সিট দখলের অভিযোগে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আবাসিক হলের সিট বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন করেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলের সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবৈধভাবে হলের সিট দখলের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে ছাত্রশিবিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রচলিত নীতিমালা উপেক্ষা করে হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, এর ফলে ক্যাম্পাসে আবারও হলকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক আবাসন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে।

বক্তারা আরও দাবি করেন, অনেকের ছাত্রত্ব শেষ হলেও তারা এখনো আবাসিক হলে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে নিয়ম অনুযায়ী বৈধ শিক্ষার্থী হয়েও অনেকেই সিট না পেয়ে বারান্দা কিংবা গণরুমে অস্বস্তিকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণারও ইঙ্গিত দেন তারা।

মানববন্ধন থেকে আবাসিক হলের সিট বরাদ্দে মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নীতিমালা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের হল থেকে অপসারণ, অপেক্ষমাণ (ওয়েটিং) তালিকা প্রকাশ এবং কোন নীতিমালার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—তা প্রকাশ্যে তুলে ধরার আহ্বান জানান বক্তারা।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। তিনি বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব প্রভোস্ট দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সময় যেভাবে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেই বরাদ্দই এখনো কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দারিদ্র্য কোটার একটি অংশের সিটের সুবিধা ব্যবহার করে ছাত্রশিবিরের অনেক কর্মী আবাসিক হলে অবস্থান করছেন।

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, তাদের সংগঠন কোনো বৈধ সিট দখল করেনি। যদি এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য জানতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হলের সিট বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাই স্বচ্ছ ও নীতিমালাভিত্তিক সিট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা মনে করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

রাবিতে সিট দখলের অভিযোগে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:০৮:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলের সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবৈধভাবে হলের সিট দখলের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে ছাত্রশিবিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রচলিত নীতিমালা উপেক্ষা করে হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, এর ফলে ক্যাম্পাসে আবারও হলকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক আবাসন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে।

বক্তারা আরও দাবি করেন, অনেকের ছাত্রত্ব শেষ হলেও তারা এখনো আবাসিক হলে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে নিয়ম অনুযায়ী বৈধ শিক্ষার্থী হয়েও অনেকেই সিট না পেয়ে বারান্দা কিংবা গণরুমে অস্বস্তিকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণারও ইঙ্গিত দেন তারা।

মানববন্ধন থেকে আবাসিক হলের সিট বরাদ্দে মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নীতিমালা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের হল থেকে অপসারণ, অপেক্ষমাণ (ওয়েটিং) তালিকা প্রকাশ এবং কোন নীতিমালার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—তা প্রকাশ্যে তুলে ধরার আহ্বান জানান বক্তারা।

অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। তিনি বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব প্রভোস্ট দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সময় যেভাবে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেই বরাদ্দই এখনো কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দারিদ্র্য কোটার একটি অংশের সিটের সুবিধা ব্যবহার করে ছাত্রশিবিরের অনেক কর্মী আবাসিক হলে অবস্থান করছেন।

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, তাদের সংগঠন কোনো বৈধ সিট দখল করেনি। যদি এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য জানতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হলের সিট বরাদ্দ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাই স্বচ্ছ ও নীতিমালাভিত্তিক সিট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের বিতর্ক অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা মনে করছেন।