ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

আতঙ্কে ছাত্রশূন্য রাজশাহী নার্সিং কলেজ হোস্টেল -পরীক্ষাও অনিশ্চয়তায়

রাজশাহী নার্সিং কলেজের ছাত্র হোস্টেল — হত্যা মামলায় তিন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তারের পর আতঙ্কে ছাত্রশূন্য হয়ে পড়েছে এই আবাসিক ভবনটি। (ফাইল ফটো)

রাতের আঁধারে এক চোরকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা এখন পুড়িয়ে দিচ্ছে শত শত নিরীহ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। রাজশাহী নার্সিং কলেজের ছাত্র হোস্টেল এখন কার্যত মৃতপুরী — শতাধিক শিক্ষার্থীর সরগরম আবাসটি আজ ভূতুড়ে নীরবতায় ডুবে গেছে। তিন সহপাঠীর গ্রেপ্তারের খবরে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন প্রায় সবাই। আর দরজায় কড়া নাড়ছে চূড়ান্ত পরীক্ষা — যা শুরু হওয়ার কথা আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে।

গত ১৮ জুন সন্ধ্যায় কলেজের ছাত্র হোস্টেলের তৃতীয় তলায় চোর সন্দেহে আটক হন রাজশাহী নগরের হেতেমখাঁ কারিগরপাড়ার বাসিন্দা রাকিবুল হাসান রকি (৩২)। সেদিন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা পাবনা মানসিক হাসপাতালে শিক্ষা সফরে থাকায় হোস্টেলের একটি কক্ষে সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি — অন্তত অভিযোগ তাই বলছে।

অন্য বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে আটক করেন এবং চলে নির্মম মারধর। আহত রকিকে বের করে দেওয়া হলে কিছু দূর যেতেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রকির বোন রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে সনাক্ত করে তিন শিক্ষার্থী – সোয়েব আক্তার শিমু, ফাহিম রেজা ববি ও আতিকুর রহমান -এবং তাদের গ্রেপ্তার করে। রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কাউকে ধরা হয়নি এবং নিরীহ শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক।

কিন্তু সতর্কবার্তায় ভরসা মেলেনি শিক্ষার্থীদের মনে।

প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন এই কলেজে, যার মধ্যে মাত্র ১০ জন ছাত্র। কলেজ ক্যাম্পাসের হোস্টেলে ৭৫০ জনের আবাসন সুবিধা রয়েছে। ছেলেদের ইউনিটে থাকেন শতাধিক শিক্ষার্থী। কিন্তু গ্রেপ্তারের ঘটনার পর তৃতীয় বর্ষের গুটিকতক শিক্ষার্থী ছাড়া বাকি সবাই হোস্টেল ছেড়ে পালিয়েছেন। বিছানা খালি, দরজায় তালা, করিডোরে পায়ের শব্দ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর বাবার আক্ষেপ সব বলে দেয় — “আমার ছেলে কিছুই করেনি। তবু ভয়ে ঘরে ফিরে এসেছে। যারা দোষী শুধু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, নইলে সবার পড়াশোনা মাটি হয়ে যাবে।”

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে সব বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। ফরম পূরণও শুরু হয়েছে। কিন্তু আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা কলেজমুখী হচ্ছেন না -ফলে ফরম পূরণ কার্যক্রমও থমকে আছে।

কলেজের অধ্যক্ষ ফারজানা পারভিন সাথী বলেন, “হোস্টেল বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন ছাড়া কোনো ছাত্র নেই। সামনে পরীক্ষা, শিক্ষার্থীরা ফিরছে না -স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে আমরা কাজ করছি।”

একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন হাতে তুলে নেওয়ার পরিণতি এখন গ্রাস করছে পুরো কলেজের শিক্ষার পরিবেশকে। রকির প্রাণ গেছে – কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্ন বুকে নিয়ে পড়তে আসা এই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও কি আটকে যাবে এই রক্তের দাগে?

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

আতঙ্কে ছাত্রশূন্য রাজশাহী নার্সিং কলেজ হোস্টেল -পরীক্ষাও অনিশ্চয়তায়

প্রকাশের সময়ঃ ০১:১৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রাতের আঁধারে এক চোরকে পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা এখন পুড়িয়ে দিচ্ছে শত শত নিরীহ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। রাজশাহী নার্সিং কলেজের ছাত্র হোস্টেল এখন কার্যত মৃতপুরী — শতাধিক শিক্ষার্থীর সরগরম আবাসটি আজ ভূতুড়ে নীরবতায় ডুবে গেছে। তিন সহপাঠীর গ্রেপ্তারের খবরে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন প্রায় সবাই। আর দরজায় কড়া নাড়ছে চূড়ান্ত পরীক্ষা — যা শুরু হওয়ার কথা আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে।

গত ১৮ জুন সন্ধ্যায় কলেজের ছাত্র হোস্টেলের তৃতীয় তলায় চোর সন্দেহে আটক হন রাজশাহী নগরের হেতেমখাঁ কারিগরপাড়ার বাসিন্দা রাকিবুল হাসান রকি (৩২)। সেদিন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা পাবনা মানসিক হাসপাতালে শিক্ষা সফরে থাকায় হোস্টেলের একটি কক্ষে সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি — অন্তত অভিযোগ তাই বলছে।

অন্য বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে আটক করেন এবং চলে নির্মম মারধর। আহত রকিকে বের করে দেওয়া হলে কিছু দূর যেতেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রকির বোন রাজপাড়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে সনাক্ত করে তিন শিক্ষার্থী – সোয়েব আক্তার শিমু, ফাহিম রেজা ববি ও আতিকুর রহমান -এবং তাদের গ্রেপ্তার করে। রাজপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কাউকে ধরা হয়নি এবং নিরীহ শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক।

কিন্তু সতর্কবার্তায় ভরসা মেলেনি শিক্ষার্থীদের মনে।

প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন এই কলেজে, যার মধ্যে মাত্র ১০ জন ছাত্র। কলেজ ক্যাম্পাসের হোস্টেলে ৭৫০ জনের আবাসন সুবিধা রয়েছে। ছেলেদের ইউনিটে থাকেন শতাধিক শিক্ষার্থী। কিন্তু গ্রেপ্তারের ঘটনার পর তৃতীয় বর্ষের গুটিকতক শিক্ষার্থী ছাড়া বাকি সবাই হোস্টেল ছেড়ে পালিয়েছেন। বিছানা খালি, দরজায় তালা, করিডোরে পায়ের শব্দ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর বাবার আক্ষেপ সব বলে দেয় — “আমার ছেলে কিছুই করেনি। তবু ভয়ে ঘরে ফিরে এসেছে। যারা দোষী শুধু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, নইলে সবার পড়াশোনা মাটি হয়ে যাবে।”

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে সব বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। ফরম পূরণও শুরু হয়েছে। কিন্তু আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা কলেজমুখী হচ্ছেন না -ফলে ফরম পূরণ কার্যক্রমও থমকে আছে।

কলেজের অধ্যক্ষ ফারজানা পারভিন সাথী বলেন, “হোস্টেল বন্ধ করা হয়নি। কিন্তু তৃতীয় বর্ষের কয়েকজন ছাড়া কোনো ছাত্র নেই। সামনে পরীক্ষা, শিক্ষার্থীরা ফিরছে না -স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে আমরা কাজ করছি।”

একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন হাতে তুলে নেওয়ার পরিণতি এখন গ্রাস করছে পুরো কলেজের শিক্ষার পরিবেশকে। রকির প্রাণ গেছে – কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্ন বুকে নিয়ে পড়তে আসা এই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও কি আটকে যাবে এই রক্তের দাগে?