
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অসদাচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ উপস্থিত হয়। পরে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদারের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আশ্বাস দিয়ে কিছু শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট পড়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। সেই সময় অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এছাড়া শ্রেণিকক্ষেও বিভিন্ন সময়ে অস্বস্তিকর আচরণের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অসদাচরণের ঘটনা ঘটলেও সামাজিক সংকোচ ও পারিবারিক কারণে অনেকে বিষয়টি প্রকাশ করেননি। সম্প্রতি একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর সহপাঠীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন,”শিক্ষক আমাদের শ্রদ্ধার জায়গার মানুষ। তাই শিক্ষাঙ্গনে এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন আকন জানান, এ পর্যন্ত দুইজন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।তিনি বলেন,”অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করেন।তিনি বলেন,”আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে কমিটির সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সৈয়দ নূর আহসান, বরিশাল 

















