ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাজ্জাকের সঙ্গে প্রথম দেখার স্মৃতিচারণ করলেন কনকচাঁপা সৌর বিদ্যুৎ যন্ত্রপাতি আমদানিতে বড় শুল্ক ছাড় দিলো এনবিআর ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান হোক নিয়মিত, জনসচেতনতা হোক ঘরে ঘরে রাজধানীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে এসআরবির কার্যক্রম শুরু ইসির নতুন প্রতীক তালিকা প্রকাশ, যুক্ত হলো ‘না’; মোট প্রতীক ১২০টি দীর্ঘ আড়াই বছর পর একক কনসার্টে বাপ্পা মজুমদার, মঞ্চ মাতাবেন ৯ অক্টোবর একাদশ শ্রেণির ভর্তি: প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ সিনেমা হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির একক এখতিয়ার নেই: তথ্য উপদেষ্টা

সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।সংগৃহীত ছবি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই মুখ্য বিষয়। এই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের একক কোনো এখতিয়ার নেই।

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকার একটি মোটামুটি সময়সূচি ইতিমধ্যে জানিয়েছে। এই সময়সূচি অনুসরণ করেই সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনের দিকে এগোবে। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, এ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একই দিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকারের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকলেও স্থানীয় সরকারসহ অন্যান্য নির্বাচন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই আয়োজন করতে হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই, তাই সরকারের এই বক্তব্যকেই সঠিক বলে ধরে নিতে হবে। সরকারের অভ্যন্তরে এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসি ঘোষিত সময়সূচি নিয়ে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা দূরত্ব হিসেবে বিবেচনা করার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব।

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে আনা, পিছিয়ে দেওয়া বা পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন—সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিজস্ব এখতিয়ারের ভিত্তিতেই নির্বাচন আয়োজন করবে।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেমন হবে—এই প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক, যেখানে প্রার্থীরা নিজেদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় সরকারের প্রধান পদগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এবার কোনো দল সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে প্রার্থী কোন দলের সমর্থক—এই বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠবে না।

উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকায় এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে অতীতের একতরফা নির্বাচনী পরিবেশের পরিবর্তে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার একটি নতুন পরিবেশ তৈরি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্জাকের সঙ্গে প্রথম দেখার স্মৃতিচারণ করলেন কনকচাঁপা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির একক এখতিয়ার নেই: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই মুখ্য বিষয়। এই নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের একক কোনো এখতিয়ার নেই।

মঙ্গলবার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকার একটি মোটামুটি সময়সূচি ইতিমধ্যে জানিয়েছে। এই সময়সূচি অনুসরণ করেই সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনের দিকে এগোবে। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, এ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে একই দিন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকারের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকলেও স্থানীয় সরকারসহ অন্যান্য নির্বাচন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই আয়োজন করতে হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই, তাই সরকারের এই বক্তব্যকেই সঠিক বলে ধরে নিতে হবে। সরকারের অভ্যন্তরে এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ইসি ঘোষিত সময়সূচি নিয়ে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা দূরত্ব হিসেবে বিবেচনা করার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ প্রয়োজনে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব।

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে আনা, পিছিয়ে দেওয়া বা পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন—সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নিজস্ব এখতিয়ারের ভিত্তিতেই নির্বাচন আয়োজন করবে।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেমন হবে—এই প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক, যেখানে প্রার্থীরা নিজেদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় সরকারের প্রধান পদগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু এবার কোনো দল সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে প্রার্থী কোন দলের সমর্থক—এই বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠবে না।

উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকায় এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি মনে করেন, এর মাধ্যমে অতীতের একতরফা নির্বাচনী পরিবেশের পরিবর্তে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার একটি নতুন পরিবেশ তৈরি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা।