ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা আটক- পলাতক বাবা লুট হওয়া জামায়াতের ৯ মোটরসাইকেল বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেনের ছাদে দুই ব্যক্তি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিনিয়র সাংবাদিক জহির এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে আর ‘দুই দিন’ সময় লাগতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় যুব দলের দোয়া মাহফিল “স্বেচ্ছায় বিবাহ, তবুও  অপহরণ মামলা-নিরাপত্তা চেয়ে  ইসরাত খাতুন”র সংবাদ সম্মেলন ৮ দল আমাদের আর ৮ দল থাকছে না- আরও অনেক দল জোট করার আবেদন করছে- গোলাম পরওয়ার

মাথাভাঙ্গা নদীর বুক থেকে অপসারিত দুটি অবৈধ বাঁধ: দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ

মোঃ মিনারুল ইসলাম

স্ট্যাফ রিপোর্টার চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাথাভাঙ্গা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ, ২০ শে অক্টোবর সোমবার, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে অভিযান চালিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে নির্মিত দুটি অবৈধ বাঁধ (কোমর) অপসারণ করা হয়েছে।

এই সফল অভিযানের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পুনঃস্থাপিত হয়েছে, যার জেরে স্থানীয় জেলে ও কৃষকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এইচ. তাসফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। একটি শক্তিশালী দল এই অভিযানে অংশ নেয়।

অভিযানে নদীর প্রবাহে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি কর্তৃক অবৈধভাবে তৈরি করা বাঁধ দুটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এইচ. তাসফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাথাভাঙ্গা নদীর প্রবাহে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং পুলিশ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ সকলে মিলে আমরা এই মাথাভাঙ্গা নদীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী উপাদান, অবৈধ বাঁধ বা কোমর অপসারণ করি।

আপনারা জানেন যে, দীর্ঘ দিন ধরে আমরা অভিযান পরিচালনা করে আসছি তারই প্রেক্ষিতে আজ আমরা মাথাভাঙ্গা নদীতে কিছু লাল এবং দুইটি অবৈধ বাদ বা কোমর অপসারণ করি।”

তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, নদী দখল এবং অবৈধ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান রয়েছে। “কেউ সরকারি সম্পদ দখল করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করতে পারবে না।

এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং নদীকে দখলমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে,” তিনি যোগ করেন।

অবৈধ বাঁধ অপসারণের পর স্থানীয় জনসাধারণ বিশেষত জেলে ও কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, এই বাঁধগুলির কারণে নদীর প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল, যা মাছের স্বাভাবিক চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছিল এবং নদীর পানিপ্রবাহের অস্বাভাবিকতার কারণে তীরবর্তী ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছিল।

বাঁধ অপসারণের পর তারা বলেন, “এখন মাছ ধরা অনেক সহজ হবে এবং নদীর পানি স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হওয়ায় সেচ কাজ ও ফসল রক্ষার দিক থেকেও আমরা অনেকটাই আশঙ্কামুক্ত।”

মাথাভাঙ্গা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এইচ. তাসফিকুর রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন,

সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদার, দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই আসাদসহ বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল। সকল দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

মাথাভাঙ্গা নদীকে দখলমুক্ত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে উপজেলা প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে যে, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের জিরো-টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। এই অভিযান নদী দখলের প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি জোরালো বার্তা দিল।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর

মাথাভাঙ্গা নদীর বুক থেকে অপসারিত দুটি অবৈধ বাঁধ: দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:৪৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

মোঃ মিনারুল ইসলাম

স্ট্যাফ রিপোর্টার চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাথাভাঙ্গা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ, ২০ শে অক্টোবর সোমবার, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে অভিযান চালিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে নির্মিত দুটি অবৈধ বাঁধ (কোমর) অপসারণ করা হয়েছে।

এই সফল অভিযানের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পুনঃস্থাপিত হয়েছে, যার জেরে স্থানীয় জেলে ও কৃষকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এইচ. তাসফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। একটি শক্তিশালী দল এই অভিযানে অংশ নেয়।

অভিযানে নদীর প্রবাহে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি কর্তৃক অবৈধভাবে তৈরি করা বাঁধ দুটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এইচ. তাসফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাথাভাঙ্গা নদীর প্রবাহে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর এবং পুলিশ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ সকলে মিলে আমরা এই মাথাভাঙ্গা নদীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী উপাদান, অবৈধ বাঁধ বা কোমর অপসারণ করি।

আপনারা জানেন যে, দীর্ঘ দিন ধরে আমরা অভিযান পরিচালনা করে আসছি তারই প্রেক্ষিতে আজ আমরা মাথাভাঙ্গা নদীতে কিছু লাল এবং দুইটি অবৈধ বাদ বা কোমর অপসারণ করি।”

তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, নদী দখল এবং অবৈধ বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান রয়েছে। “কেউ সরকারি সম্পদ দখল করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করতে পারবে না।

এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং নদীকে দখলমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে,” তিনি যোগ করেন।

অবৈধ বাঁধ অপসারণের পর স্থানীয় জনসাধারণ বিশেষত জেলে ও কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, এই বাঁধগুলির কারণে নদীর প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল, যা মাছের স্বাভাবিক চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছিল এবং নদীর পানিপ্রবাহের অস্বাভাবিকতার কারণে তীরবর্তী ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছিল।

বাঁধ অপসারণের পর তারা বলেন, “এখন মাছ ধরা অনেক সহজ হবে এবং নদীর পানি স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হওয়ায় সেচ কাজ ও ফসল রক্ষার দিক থেকেও আমরা অনেকটাই আশঙ্কামুক্ত।”

মাথাভাঙ্গা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসায় পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এইচ. তাসফিকুর রহমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন,

সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক মহলদার, দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই আসাদসহ বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল। সকল দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

মাথাভাঙ্গা নদীকে দখলমুক্ত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে উপজেলা প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে যে, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের জিরো-টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। এই অভিযান নদী দখলের প্রবণতার বিরুদ্ধে একটি জোরালো বার্তা দিল।