
আবুল হাশেম দামুড়হুদা উপজেলা প্রতিনিধি , চুয়াডাঙ্গা।
সরকারের অনুমোদন ছাড়া সার বিক্রি করার অপরাধে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদাহ ইউনিয়নের গোচিয়ারপাড়া মোড়ে মেসার্স শিশির ট্রেডার্স নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
কৃষি উপকরণ ও সারের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করতে এবং কৃষক পর্যায়ে যেন কোনো প্রকার হয়রানি না হয়, সে লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর, ২০২৫) বিকালে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এইচ তাসফিকুর রহমান। অভিযানে সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা মোছাঃ শারমিন আক্তার।
জানা যায়, গোচিয়ারপাড়া মোড়ের মেসার্স শিশির ট্রেডার্স দীর্ঘদিন ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রকার সার মজুত ও বিক্রি করে আসছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের মালিক বা প্রতিনিধির কাছে সার বিক্রির বৈধ কোনো কাগজপত্র বা লাইসেন্স দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন।
অনুমতিবিহীন সার বিক্রির মতো গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এইচ তাসফিকুর রহমান ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬’ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মেসার্স শিশির ট্রেডার্সকে তাৎক্ষণিকভাবে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা মোছাঃ শারমিন আক্তার জানান, সারের গুণগত মান এবং সঠিক মূল্যে কৃষকের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সজাগ রয়েছে।
অনুমোদনবিহীন সার বিক্রি কৃষকের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে এইচ তাসফিকুর রহমান বলেন, “সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে কৃষি উপকরণ বা সার বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।
কৃষক যাতে প্রতারিত না হন এবং সঠিক মানের সার পান, তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
সকল সার ডিলার ও বিক্রেতাদেরকে যথাযথ অনুমোদন নিয়ে এবং সরকারের নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।”
এই অভিযানের মাধ্যমে স্থানীয় সার বিক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছে, যাতে তারা বৈধ উপায়ে এবং সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে সার বিক্রি করেন।
এলাকার কৃষকরাও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই ধরণের অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 















