ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা আটক- পলাতক বাবা লুট হওয়া জামায়াতের ৯ মোটরসাইকেল বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেনের ছাদে দুই ব্যক্তি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিনিয়র সাংবাদিক জহির এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে আর ‘দুই দিন’ সময় লাগতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় যুব দলের দোয়া মাহফিল “স্বেচ্ছায় বিবাহ, তবুও  অপহরণ মামলা-নিরাপত্তা চেয়ে  ইসরাত খাতুন”র সংবাদ সম্মেলন ৮ দল আমাদের আর ৮ দল থাকছে না- আরও অনেক দল জোট করার আবেদন করছে- গোলাম পরওয়ার

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধান ও সবজির ক্ষেত

রাতভর বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং পাশাপাশি ডুবে গেছে জমির পাকা, আধাপাকা ধান ও শীতকালীন সবজিক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে গত ১০ বছরে একদিনে এমন বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৫ উপজেলায় মোট ৯৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৯১ মিলিমিটার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ২৬০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া জেলার শিবগঞ্জে ১৭৫ মিমি, গোমস্তাপুরে ১৮০ মিমি, নাচোলে ১৭৫ মিমি এবং ভোলাহাটে ১৬৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, আর এক সপ্তাহ পরেই শুরু হতো ধান কাটা। কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে বৃষ্টিতে তাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। নিম্নাঞ্চলের খেতগুলোতে পুরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। কৃষকদেরে দাবি- আগে যেসব জমিতে বিঘাপ্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছিলেন, সেখানে হয়তো ৫ মণের বেশি পাবেন না।

নাচোল নেজামপুর এলাকার আমন ধান চাষী আবু সায়েম বলেন, আমার তিন বিঘা জমির ধান পুরোপুরি ডুবে গেছে। কয়েকদিন পরেই ধান কাটা শুরু হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্যোগের কবলে পড়ে অধিকাংশ ধান শেষ হয়ে গেছে। আশা করেছিলাম বিঘায় ২০ মণ করে ধান হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিঘাতে ৫ মণের বেশি পাবো না।

ইসলামপুর এলকার আব্দুর রহিম বলেন, গত বছর আলু চাষে অনেক লোকসান হয়েছে। ভাবলাম আগাম লাগালে ভালো দাম পাব। তাই দেড় বিঘা জমিতে এক সপ্তাহ আগে বীজ রোপণ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে গাছ ঠিকভাবে উঠছে না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

দেবিনগর এলাকার সানাউল্লাহ জানান, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ফুলকপিসহ নানা সবজির গোড়ায় পচন ধরেছে। অসময়ের এই বৃষ্টিতে খরচের টাকাও তুলতে পারব কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইয়াছিন আলী জানান, গত ১০ বছরের একদিনে এত বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃষ্টিতে জেলার ৪ হাজার ৪৫৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন, সরিষা, বিভিন্ন শীতকালিন সবজি, পেঁয়াজ, মাসকলাইসহ আরোও অনেক ফসল।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধান ও সবজির ক্ষেত

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:১৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রাতভর বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং পাশাপাশি ডুবে গেছে জমির পাকা, আধাপাকা ধান ও শীতকালীন সবজিক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে গত ১০ বছরে একদিনে এমন বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৫ উপজেলায় মোট ৯৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৯১ মিলিমিটার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে ২৬০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া জেলার শিবগঞ্জে ১৭৫ মিমি, গোমস্তাপুরে ১৮০ মিমি, নাচোলে ১৭৫ মিমি এবং ভোলাহাটে ১৬৫ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, আর এক সপ্তাহ পরেই শুরু হতো ধান কাটা। কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে বৃষ্টিতে তাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। নিম্নাঞ্চলের খেতগুলোতে পুরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। কৃষকদেরে দাবি- আগে যেসব জমিতে বিঘাপ্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছিলেন, সেখানে হয়তো ৫ মণের বেশি পাবেন না।

নাচোল নেজামপুর এলাকার আমন ধান চাষী আবু সায়েম বলেন, আমার তিন বিঘা জমির ধান পুরোপুরি ডুবে গেছে। কয়েকদিন পরেই ধান কাটা শুরু হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্যোগের কবলে পড়ে অধিকাংশ ধান শেষ হয়ে গেছে। আশা করেছিলাম বিঘায় ২০ মণ করে ধান হবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিঘাতে ৫ মণের বেশি পাবো না।

ইসলামপুর এলকার আব্দুর রহিম বলেন, গত বছর আলু চাষে অনেক লোকসান হয়েছে। ভাবলাম আগাম লাগালে ভালো দাম পাব। তাই দেড় বিঘা জমিতে এক সপ্তাহ আগে বীজ রোপণ করেছি। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে গাছ ঠিকভাবে উঠছে না। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

দেবিনগর এলাকার সানাউল্লাহ জানান, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ফুলকপিসহ নানা সবজির গোড়ায় পচন ধরেছে। অসময়ের এই বৃষ্টিতে খরচের টাকাও তুলতে পারব কিনা, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ইয়াছিন আলী জানান, গত ১০ বছরের একদিনে এত বৃষ্টির রেকর্ড নেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃষ্টিতে জেলার ৪ হাজার ৪৫৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে রোপা আমন, সরিষা, বিভিন্ন শীতকালিন সবজি, পেঁয়াজ, মাসকলাইসহ আরোও অনেক ফসল।