
আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হকের জেরা চলাকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ বৃহস্পতিবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। একটি প্রশ্নকে কেন্দ্র করে প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রনিযুক্ত ডিফেন্স আইনজীবীদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা তর্ক-বিতর্ক চলে। পরে বিচারিক প্যানেলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য—অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর—জেরার কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এর আগে সকালে আশুলিয়ায় সাতজনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া আবজালুলের জেরা শুরু হয়।
জেরার এক পর্যায়ে আসামিপক্ষ জানতে চায়, ৫ আগস্টের ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিলেন কি না। জবাবে আবজালুল জানান, তিনি নিজে ঘটনার দিন উপস্থিত ছিলেন না, তবে অন্য ইউনিটের এক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত তার কাছে এসেছিল, যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি। প্রসিকিউশন এই প্রশ্নে আপত্তি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এর আগের দিন রাজসাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে আবজালুল জানান, তিনি ঘটনাস্থলে সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও অন্যদের মুখে লাশ পোড়ানোর বর্ণনা শুনেছেন। তার বক্তব্য প্রত্যাশার তুলনায় কম তথ্যসমৃদ্ধ হওয়ায় আদালতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে প্রসিকিউশন দাবি করে, তিনি তার জানা তথ্যই জানিয়েছেন।
মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যসহ একাধিক সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ৫ আগস্টের ঘটনাকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—যেখানে ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশ ভ্যানে তুলে তাদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। এমনকি একজন জীবিত ভুক্তভোগীকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার অভিযোগও আদালতে এসেছে।
মোট ১৬ জনকে আসামি করে দায়েরকৃত এ মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আরও আটজন পলাতক রয়েছেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্কঃ 












