ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

শীতে জমে যাওয়া রাত, রাস্তায় পরিত্যক্ত দুই সহোদর-ভাইকে আগলে বোনের কান্না

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে হাড়কাঁপানো শীতের রাতে অসুস্থ দুই শিশু।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কনকনে শীতের রাতে অসুস্থ দুই শিশুকে সড়কের পাশে ফেলে যাওয়ার এক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের পরিবারের কোনো খোঁজ মেলেনি। কে বা কারা এই নিষ্ঠুর কাজ করেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন এলাকায় সড়কের পাশ থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে ছোট ভাইয়ের বয়স মাত্র দুই বছর, সে বাকপ্রতিবন্ধী। আর চার বছর বয়সী কন্যাশিশুটির নাম আয়শা। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও ভাইকে বুকে জড়িয়ে আগলে রাখা আয়শার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের হৃদয়ে গভীর নাড়া দেয়।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইকে জড়িয়ে ধরা আয়শার সেই ছবিটি যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে নিজের সন্তানকে এভাবে ফেলে যেতে পারে?

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশু দুটিকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেন মহিম উদ্দিন নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। মানবিক কারণে তিনি তাদের নিজের তত্ত্বাবধানে রাখেন।

উদ্ধার হওয়ার পর বড় বোন আয়শা জানায়, তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভীর দোকান এলাকায়। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম এবং মায়ের নাম ঝিনুক আখতার। আয়শা আরও জানায়, মা-বাবার কাছ থেকে এনে এক খালা তাদের সড়কের পাশে বসিয়ে রেখে চলে যান। প্রথমদিকে শিশু দুটো ভয়ে ও অসুস্থতায় কোনো কথা বলতে পারেনি। পরে ধীরে ধীরে কথা বললে তাদের পরিচয় ও করুণ অবস্থার বিষয়টি জানা যায়।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,
“শিশু দুটি বর্তমানে যাঁরা উদ্ধার করেছেন, তাঁদের জিম্মায় আছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। কারা তাদের ফেলে গেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান,
“সমাজসেবা অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিশুদের সেফহোমে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

শীতের রাতে ভাইকে আগলে রাখা ছোট্ট আয়শার সেই নিঃশব্দ সাহস আজ মানবতার এক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। আর প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—পরিবারের নিষ্ঠুরতার দায় কে নেবে, আর এই দুই শিশুর ভবিষ্যতই বা কোন পথে যাবে?

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

শীতে জমে যাওয়া রাত, রাস্তায় পরিত্যক্ত দুই সহোদর-ভাইকে আগলে বোনের কান্না

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:০৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কনকনে শীতের রাতে অসুস্থ দুই শিশুকে সড়কের পাশে ফেলে যাওয়ার এক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের পরিবারের কোনো খোঁজ মেলেনি। কে বা কারা এই নিষ্ঠুর কাজ করেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন এলাকায় সড়কের পাশ থেকে শিশু দুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে ছোট ভাইয়ের বয়স মাত্র দুই বছর, সে বাকপ্রতিবন্ধী। আর চার বছর বয়সী কন্যাশিশুটির নাম আয়শা। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও ভাইকে বুকে জড়িয়ে আগলে রাখা আয়শার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের হৃদয়ে গভীর নাড়া দেয়।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইকে জড়িয়ে ধরা আয়শার সেই ছবিটি যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে নিজের সন্তানকে এভাবে ফেলে যেতে পারে?

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশু দুটিকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেন মহিম উদ্দিন নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। মানবিক কারণে তিনি তাদের নিজের তত্ত্বাবধানে রাখেন।

উদ্ধার হওয়ার পর বড় বোন আয়শা জানায়, তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মৌলভীর দোকান এলাকায়। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম এবং মায়ের নাম ঝিনুক আখতার। আয়শা আরও জানায়, মা-বাবার কাছ থেকে এনে এক খালা তাদের সড়কের পাশে বসিয়ে রেখে চলে যান। প্রথমদিকে শিশু দুটো ভয়ে ও অসুস্থতায় কোনো কথা বলতে পারেনি। পরে ধীরে ধীরে কথা বললে তাদের পরিচয় ও করুণ অবস্থার বিষয়টি জানা যায়।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,
“শিশু দুটি বর্তমানে যাঁরা উদ্ধার করেছেন, তাঁদের জিম্মায় আছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছি। কারা তাদের ফেলে গেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান,
“সমাজসেবা অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিশুদের সেফহোমে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

শীতের রাতে ভাইকে আগলে রাখা ছোট্ট আয়শার সেই নিঃশব্দ সাহস আজ মানবতার এক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। আর প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—পরিবারের নিষ্ঠুরতার দায় কে নেবে, আর এই দুই শিশুর ভবিষ্যতই বা কোন পথে যাবে?