ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

পুতুল থেকে খালেদা জিয়া

ছবি-সংগৃহীত।

সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩৬ বছর বয়সে বিধবা হন। সে সময় তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার সংসারে ছিল দুই সন্তান-তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান।

খালেদা জিয়ার নাম ছিল খালেদা খানম। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের কাছে তার ডাকনাম ছিল ‘পুতুল’। জিয়াউর রহমান যখন ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিলেন, তখন তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর নামের সঙ্গে মিল রেখে তিনি খালেদা জিয়া নাম গ্রহণ করেন বলে জানান তার বড় বোন সেলিমা ইসলাম। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে খালেদা জিয়া এই নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। তবে তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তার রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও খালেদা জিয়া সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না।

 

 

খালেদা জিয়ার সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রেই তিনি বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। তবে তার জীবনীগ্রন্থের লেখক সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ (প্রয়াত) ভিন্ন মত দিয়েছেন। বইটি প্রকাশের সময় তিনি বলেন, অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার পর পুরুষশাসিত সমাজে একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে এসে খালেদা জিয়া নিজের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে অবস্থান তৈরি করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের রোগের কারণে শরীর ও মনে ব্যাপক ধকল যাচ্ছিল। এ কারণে মাঝেমধ্যেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করাতে হতো।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে সর্বশেষ দফায় চিকিৎসায় আর সাড়া দেননি তিনি।

‘দেশনেত্রী’ ও ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া অবশেষে চিরবিদায় নিলেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুতুল থেকে খালেদা জিয়া

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:২৬:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩৬ বছর বয়সে বিধবা হন। সে সময় তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার সংসারে ছিল দুই সন্তান-তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান।

খালেদা জিয়ার নাম ছিল খালেদা খানম। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের কাছে তার ডাকনাম ছিল ‘পুতুল’। জিয়াউর রহমান যখন ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিলেন, তখন তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর নামের সঙ্গে মিল রেখে তিনি খালেদা জিয়া নাম গ্রহণ করেন বলে জানান তার বড় বোন সেলিমা ইসলাম। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে খালেদা জিয়া এই নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। তবে তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় তার রাজনীতিতে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। রাষ্ট্রপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও খালেদা জিয়া সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না।

 

 

খালেদা জিয়ার সমালোচকদের একটি অংশ মনে করেন, স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রেই তিনি বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। তবে তার জীবনীগ্রন্থের লেখক সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ (প্রয়াত) ভিন্ন মত দিয়েছেন। বইটি প্রকাশের সময় তিনি বলেন, অল্প বয়সে বিধবা হওয়ার পর পুরুষশাসিত সমাজে একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে এসে খালেদা জিয়া নিজের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে অবস্থান তৈরি করেন।

দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের রোগের কারণে শরীর ও মনে ব্যাপক ধকল যাচ্ছিল। এ কারণে মাঝেমধ্যেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করাতে হতো।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে সর্বশেষ দফায় চিকিৎসায় আর সাড়া দেননি তিনি।

‘দেশনেত্রী’ ও ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া অবশেষে চিরবিদায় নিলেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।