
গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে নারীসহ ৫২ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রজুড়ে কড়া নজরদারির মধ্যেই ফাঁস হয় ‘হাইটেক নকলের’ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী লিখিত পরীক্ষা চলাকালে জেলার ২৪টি কেন্দ্র থেকে এসব পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ ইয়ার ডিভাইসসহ নানা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১১ জন পরীক্ষার্থী ধরা পড়েন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা আব্দুল কাইয়ূম হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে।
পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনেক পরীক্ষার্থীর কানের ভেতরে লুকানো ডিভাইস উদ্ধার করতে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে মুহূর্তেই চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের সময় জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।”
উল্লেখ্য, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আগেই গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার স্বাক্ষরিত আদেশে পরীক্ষার দিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রের চারপাশে ২০০ গজ এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি ছিল।
তবুও সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সংঘবদ্ধভাবে প্রযুক্তিনির্ভর নকলের এই ঘটনা নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 





















