ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ফেলানীর রক্তঝরা স্মৃতি বুকে নিয়ে বিজিবিতে আরফান

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য ও ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন।

‘জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করার কাজ করব আমি।’—কণ্ঠে দৃঢ়তা আর চোখে আবেগ নিয়ে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নবীন সদস্য ও ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথগ্রহণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়ে কাঁটাতারে ঝুলে ছিল কিশোরী ফেলানী খাতুনের নিথর দেহ। সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তারই ছোট ভাই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিয়ে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিলেন।

বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি)-এর ঐতিহ্যবাহী ‘বীর-উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরফান হোসেন বলেন, ‘২০১১ সালে আমার বয়স তখন ৬-৭ বছর। সেই সময় আমার বড় বোন ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই আমার মা-বাবার ইচ্ছা ছিল, আমি যেন এই বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে পারি। সেই স্বপ্ন নিয়েই আমি নিজেকে তৈরি করেছি।’

তিনি জানান, তারা তিন ভাই ও দুই বোন। ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে টানা চার মাস কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে আজ তিনি বিজিবির সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন।

আবেগভরা কণ্ঠে আরফান বলেন, ‘যে সীমান্তে আমার বোনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, আজ আমি সেই সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পেয়েছি। আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো মা-বাবা তাদের সন্তান হারাক, কিংবা কোনো ভাই-বোন এভাবে প্রিয়জন হারাক। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন আর কোনো ফেলানীর রক্ত ঝরে না পড়ে।’

এদিকে কুচকাওয়াজ শেষে প্যারেড মাঠেই আরফান হোসেনের খোঁজ নেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দকী। তিনি আরফানের পরিবার, বিশেষ করে তার মা ও মামার খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ফেলানীর স্মৃতিকে শক্তিতে রূপ দিয়ে আরফানের এই পথচলা অনেকের চোখে শুধু একটি নিয়োগ নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেলানীর রক্তঝরা স্মৃতি বুকে নিয়ে বিজিবিতে আরফান

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৪২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

‘জীবন দিয়ে হলেও সীমান্ত রক্ষা করার কাজ করব আমি।’—কণ্ঠে দৃঢ়তা আর চোখে আবেগ নিয়ে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নবীন সদস্য ও ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথগ্রহণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়ে কাঁটাতারে ঝুলে ছিল কিশোরী ফেলানী খাতুনের নিথর দেহ। সেই মর্মান্তিক ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তারই ছোট ভাই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিয়ে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিলেন।

বুধবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিএন্ডসি)-এর ঐতিহ্যবাহী ‘বীর-উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরফান হোসেন বলেন, ‘২০১১ সালে আমার বয়স তখন ৬-৭ বছর। সেই সময় আমার বড় বোন ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই আমার মা-বাবার ইচ্ছা ছিল, আমি যেন এই বাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের জন্য কিছু করতে পারি। সেই স্বপ্ন নিয়েই আমি নিজেকে তৈরি করেছি।’

তিনি জানান, তারা তিন ভাই ও দুই বোন। ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে টানা চার মাস কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে আজ তিনি বিজিবির সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন।

আবেগভরা কণ্ঠে আরফান বলেন, ‘যে সীমান্তে আমার বোনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, আজ আমি সেই সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পেয়েছি। আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো মা-বাবা তাদের সন্তান হারাক, কিংবা কোনো ভাই-বোন এভাবে প্রিয়জন হারাক। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন আর কোনো ফেলানীর রক্ত ঝরে না পড়ে।’

এদিকে কুচকাওয়াজ শেষে প্যারেড মাঠেই আরফান হোসেনের খোঁজ নেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দকী। তিনি আরফানের পরিবার, বিশেষ করে তার মা ও মামার খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ফেলানীর স্মৃতিকে শক্তিতে রূপ দিয়ে আরফানের এই পথচলা অনেকের চোখে শুধু একটি নিয়োগ নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।