
পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি, সম্ভাব্য অনিয়ম ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত অবস্থান তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ব্যালট বিতরণের ভিডিওগুলো তদন্ত করে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ব্যালট জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এবারই প্রথম প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব দূতাবাস ও মিশন প্রধানদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইসি কমিশনার জানান, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ জন ভোটার ব্যালট হাতে পেয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করেছেন। তবে ভুল ঠিকানার কারণে ৪ হাজার ৫২১টি ব্যালট ফেরত এসেছে, যার বেশির ভাগই মালয়েশিয়া থেকে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় অনেক প্রবাসী স্বল্প পরিসরের আবাসনে বসবাস করায় একাধিক ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। এতে কিছু ক্ষেত্রে বাল্ক ডিস্ট্রিবিউশনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত করে ব্যালট জালিয়াতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বাহরাইনের একটি ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেখানে একসঙ্গে ব্যালট বিতরণের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্তের পর বাহরাইন পোস্টকে মৌখিক নোট দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে ব্যালটগুলো দূতাবাসে ফেরত এনে ব্যক্তিগতভাবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের সমমানের সিপিআর দেখানো ছাড়া কোনো ব্যালট হস্তান্তর করা হবে না।
সানাউল্লাহ আরও বলেন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। ওমান ও কুয়েতের কিছু ভিডিও যাচাই করা হচ্ছে, তবে সেগুলো মূলত বাল্ক বিতরণ প্রক্রিয়ার বাস্তবতা থেকে এসেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
এ নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেশীয় ভোটের ব্যালট ছাপানো ও বিতরণ শুরু হবে। প্রয়োজনে প্রবাসী ভোটারদের জন্য ‘অ্যাকচুয়াল ব্যালট’ পাঠানোর সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
শেষে তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে যেন এই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 


















