
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিলে প্রথমবারের মতো সোলার পাম্পের মাধ্যমে ইরি ধান চাষে সেচ কার্যক্রম চালু করেছেন এক উদ্ভাবনী কৃষক। নিজ উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত চিন্তাভাবনা থেকে এই পরিবেশবান্ধব সেচ পদ্ধতি চালু করেন উপজেলার পশ্চিম মাধনগর গ্রামের মো. জায়েদ আলী মীরের ছেলে মো. রমজান আলী।
২৬০০ ওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালিত এই সেচ ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হচ্ছে ৩ হর্স পাওয়ারের মোটর। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে সোলার প্যানেলটি চারদিকে ঘোরানো যায়, ফলে যেদিকে সূর্যের আলো পড়ে সেদিকে ঘুরিয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এই সোলার পাম্পের মাধ্যমে প্রায় ১৫ বিঘা জমির ইরি ধানে সেচ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি।
কৃষক মো. রমজান আলী জানান, সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে তিনি এই সোলার পাম্পটি স্থাপন করেছেন। এতে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, “এই সোলার পাম্পে পানি তুলতে কোনো ঝামেলা নেই। ভার্টিকেল সিস্টেম হওয়ায় শুধু সুইচ অন করলেই পানি উঠে আসে। এতে ২০ বছরের গ্যারান্টি রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে খুবই কম খরচে ধান চাষ করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ডিজেলচালিত মেশিন দিয়ে ১০ বিঘা জমিতে ইরি চাষ করতে প্রায় ১ হাজার লিটার ডিজেল লাগে। শীতকালে মেশিন স্টার্ট করাও কষ্টকর। সেখানে সোলার পাম্পে এসব সমস্যা নেই।” কেউ যদি সোলার পাম্প স্থাপন করতে আগ্রহী হন, তাহলে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।
মাধনগর ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবরক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, “আমাদের গ্রামের কৃষক মো. রমজান আলীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন এবং অল্প খরচে চাষাবাদ করতে পারবেন।”
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করব। এটি একটি স্মার্ট ও কৃষিবান্ধব উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ডিজেল নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাজেদুর রহমান,নাটোর 




















