ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

ক্ষমতায় গেলে শূন্য থেকে ৫ বছরের সব শিশুর বিনা পয়সায় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে- ডা. শফিকুর রহমান

সংগৃহীত ছবি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু এবং ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। যারা নিজেদের চিকিৎসা ব্যয় বহনে সক্ষম, তারা নিজেরা ব্যয় করবেন; আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া ৩টায় দিনাজপুর শহরের গোর-এ শহীদ ময়দানের দক্ষিণ অংশে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে হেলিপ্যাড মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সব সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে জনগণের দেওয়া ভ্যাট, ট্যাক্স ও করের অর্থ থেকেই। কারণ জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে।

দিনাজপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অনেক পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হলেও ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর পৌরসভা আজও সেই মর্যাদা পায়নি। এটিকে তিনি দিনাজপুরবাসীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দৃঢ়ভাবে বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হবে।

ভোটাধিকার নিয়ে তিনি বলেন, “আমার ভোট আমি দেব”—এই অধিকার নিশ্চিত করার সময় এসেছে। কেউ যদি অন্যের ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তা আর মেনে নেওয়া হবে না। জনগণ যাকে পছন্দ করবে, তাকেই ভোট দেবে।

গ্যাস ও জ্বালানি ইস্যুতে জামায়াত আমির বলেন, অনেক জেলায় গ্যাস সুবিধা থাকলেও দিনাজপুর এখনো বঞ্চিত। এ অঞ্চলে কয়লার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, ফলে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু বিগত সরকারগুলো এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক জরিপ চালায়নি।

কৃষিখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলালেও ন্যায্যমূল্য পান না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আম, লিচু, টমেটোসহ কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে। এতে কৃষকরা সুবিধাজনক সময়ে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন, সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। উত্তরাঞ্চলকে কৃষির রাজধানীতে পরিণত করা হবে।

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হওয়া লজ্জাজনক। জামায়াতে ইসলামী চাঁদাবাজি করে না, করবেও না এবং কাউকে করতেও দেবে না। একইভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান থাকবে।

নারী নিরাপত্তা নিয়ে ছড়ানো গুজবের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে বন্দি করা হবে—এ ধরনের অপপ্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নেতৃত্বের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার প্রশ্নে নারী প্রতিনিধিদের ওপর আস্থা রেখেছে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সরকার গঠন করলে প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং প্রয়োজনে বিশেষায়িত হাসপাতালও স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশে তিনি সবাইকে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, অনিয়ম বা কারচুপি বরদাশত করা হবে না। কারণ ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে।

দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থী ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতায় গেলে শূন্য থেকে ৫ বছরের সব শিশুর বিনা পয়সায় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে- ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:২৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশু এবং ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী প্রবীণদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। যারা নিজেদের চিকিৎসা ব্যয় বহনে সক্ষম, তারা নিজেরা ব্যয় করবেন; আর যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া ৩টায় দিনাজপুর শহরের গোর-এ শহীদ ময়দানের দক্ষিণ অংশে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে হেলিপ্যাড মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সব সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে জনগণের দেওয়া ভ্যাট, ট্যাক্স ও করের অর্থ থেকেই। কারণ জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে।

দিনাজপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের অনেক পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হলেও ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর পৌরসভা আজও সেই মর্যাদা পায়নি। এটিকে তিনি দিনাজপুরবাসীর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দৃঢ়ভাবে বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশন করা হবে।

ভোটাধিকার নিয়ে তিনি বলেন, “আমার ভোট আমি দেব”—এই অধিকার নিশ্চিত করার সময় এসেছে। কেউ যদি অন্যের ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তা আর মেনে নেওয়া হবে না। জনগণ যাকে পছন্দ করবে, তাকেই ভোট দেবে।

গ্যাস ও জ্বালানি ইস্যুতে জামায়াত আমির বলেন, অনেক জেলায় গ্যাস সুবিধা থাকলেও দিনাজপুর এখনো বঞ্চিত। এ অঞ্চলে কয়লার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, ফলে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কিন্তু বিগত সরকারগুলো এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক জরিপ চালায়নি।

কৃষিখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলালেও ন্যায্যমূল্য পান না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আম, লিচু, টমেটোসহ কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হবে। এতে কৃষকরা সুবিধাজনক সময়ে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন, সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান। উত্তরাঞ্চলকে কৃষির রাজধানীতে পরিণত করা হবে।

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হওয়া লজ্জাজনক। জামায়াতে ইসলামী চাঁদাবাজি করে না, করবেও না এবং কাউকে করতেও দেবে না। একইভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান থাকবে।

নারী নিরাপত্তা নিয়ে ছড়ানো গুজবের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে বন্দি করা হবে—এ ধরনের অপপ্রচার সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং ঘরে, বাইরে ও কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নেতৃত্বের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার প্রশ্নে নারী প্রতিনিধিদের ওপর আস্থা রেখেছে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সরকার গঠন করলে প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করা হবে এবং প্রয়োজনে বিশেষায়িত হাসপাতালও স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশে তিনি সবাইকে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, অনিয়ম বা কারচুপি বরদাশত করা হবে না। কারণ ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে।

দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থী ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।