ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

গাইবান্ধায় ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে শোকে মায়ের মৃত্যু, পিতাও হাসপাতালে

প্রতীকী ছবি।

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে শোক সহ্য করতে না পেরে প্রাণ হারিয়েছেন এক গর্ভধারিণী মা। একই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পিতা। একদিনে মা ও ছেলের মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের নীলকুঠি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত যুবকের নাম আশরাফুল ইসলাম (২৮)। তিনি নীলকুঠি গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

শুক্রবার ঢাকায় জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন।

স্বজনরা জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর শোনামাত্রই আশরাফুলের মা আছিয়া বেগম (৪৮) আহাজারিতে ভেঙে পড়েন। গভীর শোক ও মানসিক আঘাত সইতে না পেরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে চিকিৎসার চেষ্টা করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

একই দিনে স্ত্রী ও সন্তানের এমন করুণ মৃত্যুতে আশরাফুলের বাবা রহিম উদ্দিনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখছেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আশরাফুল ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পরিবারমুখী। পরিবারের অভাব ঘোচাতে ঢাকায় কষ্ট করে চাকরি করতেন তিনি। শুক্রবার নামাজ আদায় করতে গিয়ে এমনভাবে তার মৃত্যু হবে—এটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ছেলের শোকেই মা চলে গেলেন, আর একদিনেই পরিবারটি যেন সর্বস্ব হারাল।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নীলকুঠি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

গাইবান্ধায় ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে শোকে মায়ের মৃত্যু, পিতাও হাসপাতালে

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনে শোক সহ্য করতে না পেরে প্রাণ হারিয়েছেন এক গর্ভধারিণী মা। একই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পিতা। একদিনে মা ও ছেলের মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের নীলকুঠি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত যুবকের নাম আশরাফুল ইসলাম (২৮)। তিনি নীলকুঠি গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

শুক্রবার ঢাকায় জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দ্রুত চিকিৎসার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন।

স্বজনরা জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর শোনামাত্রই আশরাফুলের মা আছিয়া বেগম (৪৮) আহাজারিতে ভেঙে পড়েন। গভীর শোক ও মানসিক আঘাত সইতে না পেরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে চিকিৎসার চেষ্টা করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

একই দিনে স্ত্রী ও সন্তানের এমন করুণ মৃত্যুতে আশরাফুলের বাবা রহিম উদ্দিনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখছেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আশরাফুল ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পরিবারমুখী। পরিবারের অভাব ঘোচাতে ঢাকায় কষ্ট করে চাকরি করতেন তিনি। শুক্রবার নামাজ আদায় করতে গিয়ে এমনভাবে তার মৃত্যু হবে—এটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ছেলের শোকেই মা চলে গেলেন, আর একদিনেই পরিবারটি যেন সর্বস্ব হারাল।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নীলকুঠি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।