ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

ভোটের পছন্দ নিয়ে দাম্পত্য ভাঙন: শিবগঞ্জে স্ত্রীকে তালাক

তারাফুল বেগম।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও শিবগঞ্জে ভোটের পছন্দকে কেন্দ্র করে এক দাম্পত্য কলহের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভিন্ন প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি কর্মী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

ঘটনাটি শিবগঞ্জ পৌর এলাকার শেখটোলা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. কেরামত আলীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেন তারাফুল বেগম। তার স্বামী সইবুর রহমান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। এরই মধ্যে অসুস্থ নাতির সুস্থতা কামনায় তারাফুল বেগম জুমার দিন তাবারক হিসেবে ক্ষীর ও খিচুড়ি রান্না করে বিতরণ করেন। স্বামী বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিজয় উদ্‌যাপন হিসেবে মনে করে ক্ষুব্ধ হন এবং একপর্যায়ে তালাক দেন বলে অভিযোগ।

তালাকের পর তারাফুল বেগম বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

তারাফুল বেগম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সমর্থক এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন, যা তার স্বামী জানতেন। ভোটের দিন তিনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেন। তার দাবি, ভোট ও পরবর্তী ঘটনার জের ধরেই তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সইবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে আবেগের বশে তিনি তালাক দিয়েছেন। পরে বিষয়টি ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়েছেন এবং পুনরায় সংসার করতে চান।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির জানান, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য পারিবারিক সম্পর্কে প্রভাব ফেললেও সংলাপ ও সহনশীলতার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

ভোটের পছন্দ নিয়ে দাম্পত্য ভাঙন: শিবগঞ্জে স্ত্রীকে তালাক

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও শিবগঞ্জে ভোটের পছন্দকে কেন্দ্র করে এক দাম্পত্য কলহের ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভিন্ন প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি কর্মী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

ঘটনাটি শিবগঞ্জ পৌর এলাকার শেখটোলা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. কেরামত আলীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেন তারাফুল বেগম। তার স্বামী সইবুর রহমান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হয়। এরই মধ্যে অসুস্থ নাতির সুস্থতা কামনায় তারাফুল বেগম জুমার দিন তাবারক হিসেবে ক্ষীর ও খিচুড়ি রান্না করে বিতরণ করেন। স্বামী বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিজয় উদ্‌যাপন হিসেবে মনে করে ক্ষুব্ধ হন এবং একপর্যায়ে তালাক দেন বলে অভিযোগ।

তালাকের পর তারাফুল বেগম বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

তারাফুল বেগম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের সমর্থক এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন, যা তার স্বামী জানতেন। ভোটের দিন তিনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেন। তার দাবি, ভোট ও পরবর্তী ঘটনার জের ধরেই তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সইবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক মতভেদের কারণে আবেগের বশে তিনি তালাক দিয়েছেন। পরে বিষয়টি ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়েছেন এবং পুনরায় সংসার করতে চান।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির জানান, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য পারিবারিক সম্পর্কে প্রভাব ফেললেও সংলাপ ও সহনশীলতার মাধ্যমেই সমাধান খোঁজা উচিত।