ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

ভাঙ্গায় বিয়ের দুই মাস পর কিশোরীর মৃত্যু, হাসপাতালে মরদেহ রেখে স্বামী উধাও

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৪৮ Time View

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়ের দুই মাস পর লামিয়া আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। তাদের দাবি, মৃত্যুর পর লামিয়ার মরদেহ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন চলে যান।

নিহত লামিয়া ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদি সাহাপাড়া গ্রামের লিটু মাতুব্বরের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তারা লামিয়ার মরদেহ দেখতে পান। পরে সোমবার সকালে মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, লামিয়া স্থানীয় মুনসুরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে গ্যারেজ মিস্ত্রি রনি শেখের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রনি একই উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার সোবহান শেখের ছেলে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ২০ জুলাই রনির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন লামিয়া। এরপর তারা আত্মগোপনে ছিলেন। চলতি মাসে পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্ধান পান। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়েটি মেনে নেওয়া হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুনসুরাবাদ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেন লামিয়া ও রনি। এরপর ওই বাসায় স্বামী ও শাশুড়ির হাতে দুই দফা নির্যাতনের শিকার হন লামিয়া বলে অভিযোগ করেছেন তার নানা আব্দুল ওয়াদুদ খালাসী।

আব্দুল ওয়াদুদ খালাসীর অভিযোগ, তার নাতনিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। লামিয়ার গলায় আঙুলের দাগ ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, লামিয়াকে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। পরে তারা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। সেখানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছে লামিয়ার পরিবার। একই সঙ্গে তার স্বামী রনিকে দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার সকালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

ভাঙ্গায় বিয়ের দুই মাস পর কিশোরীর মৃত্যু, হাসপাতালে মরদেহ রেখে স্বামী উধাও

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়ের দুই মাস পর লামিয়া আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। তাদের দাবি, মৃত্যুর পর লামিয়ার মরদেহ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন চলে যান।

নিহত লামিয়া ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদি সাহাপাড়া গ্রামের লিটু মাতুব্বরের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তারা লামিয়ার মরদেহ দেখতে পান। পরে সোমবার সকালে মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, লামিয়া স্থানীয় মুনসুরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে গ্যারেজ মিস্ত্রি রনি শেখের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রনি একই উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার সোবহান শেখের ছেলে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ২০ জুলাই রনির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন লামিয়া। এরপর তারা আত্মগোপনে ছিলেন। চলতি মাসে পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্ধান পান। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়েটি মেনে নেওয়া হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুনসুরাবাদ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেন লামিয়া ও রনি। এরপর ওই বাসায় স্বামী ও শাশুড়ির হাতে দুই দফা নির্যাতনের শিকার হন লামিয়া বলে অভিযোগ করেছেন তার নানা আব্দুল ওয়াদুদ খালাসী।

আব্দুল ওয়াদুদ খালাসীর অভিযোগ, তার নাতনিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। লামিয়ার গলায় আঙুলের দাগ ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, লামিয়াকে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। পরে তারা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। সেখানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছে লামিয়ার পরিবার। একই সঙ্গে তার স্বামী রনিকে দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার সকালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।