
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কমে আসায় এশিয়ার অধিকাংশ শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। এর মধ্যে আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনাও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চলতি সপ্তাহেই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। বরং মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা এবং তা নিয়ন্ত্রণে ফেডের কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সোমবার ট্রাম্প অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদন অস্বীকার করেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটি সত্য নয় এবং তিনি ইরানকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেননি। তিনি প্রতিবেদনটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছিল, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিলে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়তে রাজি হতে পারেন ট্রাম্প।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় হওয়া বিভিন্ন বার্তা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরানের দেওয়া শর্তগুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
তবে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মনে করছেন, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।
বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক ইয়ান লিংগেন বলেন, সংঘাত আরও কিছু সময় বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মানিয়ে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সংঘাত নিরসনে অগ্রগতি না হওয়ায় জ্বালানির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাজ্যের মোটরচালকদের সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এর আগে সোমবার ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান শেয়ার সূচকই দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করে। এর প্রভাব পড়ে এশিয়ার বাজারেও। মঙ্গলবার টোকিও, সিউল, হংকং, সাংহাই, সিঙ্গাপুর, তাইপে, ওয়েলিংটন, ম্যানিলা ও সিডনির শেয়ারবাজারে সূচক কমেছে।
সোমবার বড় দরপতনের পর মঙ্গলবারও স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ১৬০ ডলারের আশপাশে ছিল। সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। বাজারে অক্টোবরের শেষ দিকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
অধিকার ডেস্কঃ 





















