ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

‎লক্ষ্মীপুরে ছেলেকে হারিয়ে দিসে হারা মা, চান হত্যার বিচার

ছেলে সোহাগের কবরে মায়ের আহাজরী।

‎লক্ষ্মীপুর জেলার  রায়পুরে আলোচিত সোহাগ হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী নিখোঁজের দুই দিন পর বালুচাপা অবস্থায় সোহাগ (২৮) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, সোহাগকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে আহাজারি করছেন মা-বাবা ও স্বজনরা। দিসে হারা হয়ে আছেন ৮ মাসের গর্ভবতী স্ত্রী।

‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোহাগ পরিবারের ছোট ছেলে। প্রায় ৯ মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে সে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিল। তার স্ত্রী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

‎নিহতের স্বজনরা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সে দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্রে যাত্রী আনা-নেওয়ার কাজ করে। সন্ধ্যার দিকে মুঠোফোনে মাকে রাতের খাবার টেবিলে রাখতে বলে। কিন্তু এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাত পেরিয়ে পরদিনও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তাকে না পেয়ে রায়পুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা।

‎পরিবারের অভিযোগ, ভোটের দিন সে স্থানীয় একটি প্রার্থীর কর্মীদের যাতায়াতে সহযোগিতা করেছিল। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তার হত্যার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।

‎গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে পাটোয়ারী রাস্তার মাথায় রেয়ার মডেল দাখিল মাদ্রাসার সামনে রাস্তার উত্তর পাশে এক কৃষক তার জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বালুচাপা অবস্থায় এক ব্যক্তির পায়ের তিনটি আঙুল দেখতে পান। বিষয়টি তিনি ৪ নং সোনাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা পাটোয়ারীকে জানান। পরে তিনি রায়পুর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

‎মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা এসে সেটি সোহাগের বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।ময়নাতদন্ত শেষে সোহাগের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে,এবং পারিবারিকভাবে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

‎নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। মুরাদ, আরাফাত,শাহীনের বিচার চাই।তাদের ফাঁসি চাই।  আমার ছেলের বউ আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

‎রায়পুর থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। আরাফাত নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

‎এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

জনপ্রিয় সংবাদ

‎লক্ষ্মীপুরে ছেলেকে হারিয়ে দিসে হারা মা, চান হত্যার বিচার

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৫১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‎লক্ষ্মীপুর জেলার  রায়পুরে আলোচিত সোহাগ হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী নিখোঁজের দুই দিন পর বালুচাপা অবস্থায় সোহাগ (২৮) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, সোহাগকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে আহাজারি করছেন মা-বাবা ও স্বজনরা। দিসে হারা হয়ে আছেন ৮ মাসের গর্ভবতী স্ত্রী।

‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোহাগ পরিবারের ছোট ছেলে। প্রায় ৯ মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে সে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিল। তার স্ত্রী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

‎নিহতের স্বজনরা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে সে দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্রে যাত্রী আনা-নেওয়ার কাজ করে। সন্ধ্যার দিকে মুঠোফোনে মাকে রাতের খাবার টেবিলে রাখতে বলে। কিন্তু এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাত পেরিয়ে পরদিনও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তাকে না পেয়ে রায়পুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা।

‎পরিবারের অভিযোগ, ভোটের দিন সে স্থানীয় একটি প্রার্থীর কর্মীদের যাতায়াতে সহযোগিতা করেছিল। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তার হত্যার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।

‎গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে পাটোয়ারী রাস্তার মাথায় রেয়ার মডেল দাখিল মাদ্রাসার সামনে রাস্তার উত্তর পাশে এক কৃষক তার জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বালুচাপা অবস্থায় এক ব্যক্তির পায়ের তিনটি আঙুল দেখতে পান। বিষয়টি তিনি ৪ নং সোনাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা পাটোয়ারীকে জানান। পরে তিনি রায়পুর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালুর নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

‎মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা এসে সেটি সোহাগের বলে শনাক্ত করেন। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।ময়নাতদন্ত শেষে সোহাগের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে,এবং পারিবারিকভাবে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

‎নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। মুরাদ, আরাফাত,শাহীনের বিচার চাই।তাদের ফাঁসি চাই।  আমার ছেলের বউ আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

‎রায়পুর থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। আরাফাত নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

‎এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।