ঢাকা ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩ গাজীপুরে চকলেটের প্রলোভনে শিশু অপহরণচেষ্টা, আনসার সদস্যদের তৎপরতায় উদ্ধার লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মীকে অচেতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরে জখম দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা সরকারের দায়িত্ব: ড. মঈন খান ভৈরবে প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ধোঁয়ায় অসুস্থ ৭০ জনকে উদ্ধার পাবনায় রাসায়নিকে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ! গোবরাতলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিলেটে ডেঙ্গু নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

কচুরিপানা ও প্লাস্টিক বর্জ্যে নষ্ট ইবির মীর মুগ্ধ সরোবরের সৌন্দর্য

কচুরিপানা ও প্লাস্টিক বর্জ্যে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মুগ্ধ সরোবর।

একসময় স্বচ্ছ পানিতে মাছের বিচরণ, শীতের অতিথি পাখির আনাগোনা আর আলো ঝলমলে সেতুর সৌন্দর্যে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মীর মুগ্ধ সরোবর। তবে বর্তমানে কচুরিপানা ও বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্যে সরোবরটির সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। চড়ুইভাতি ও পিকনিক শেষে ফেলে যাওয়া বোতল, পলিথিন ও খাবারের প্যাকেটও বাড়াচ্ছে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে প্রকৌশল ভবন ও মেডিকেল সেন্টারের পেছনে অবস্থিত জলাশয়টি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অন্যতম বিনোদন ও আড্ডার স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার পর এটি ‘ইবি লেক’ নামে পরিচিত ছিল। পরে ‘মফিজ লেক’ নামে পরিচিতি পায়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জলাশয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’ রাখা হয়।

কয়েক বছর আগে আকিজ গ্রুপের অর্থায়নে লেকের ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু, উত্তর-পশ্চিম পাশে একটি ওয়াচ টাওয়ার এবং বসার জায়গা নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে লেকটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও করা হয়েছিল। সেতুতে আলোকসজ্জা থাকায় সন্ধ্যার পর এর সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত। স্বচ্ছ পানি, সবুজ পরিবেশ ও রাতের আলোকসজ্জার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকে মজা করে জায়গাটিকে ‘ইবির হাতিরঝিল’ বলতেন।

শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমনে সরোবরটির পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। পাখির কলকাকলির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আড্ডা, চড়ুইভাতি ও পিকনিকের জন্যও এটি ছিল জনপ্রিয় স্থান। তবে বিভিন্ন আয়োজন শেষে ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ অন্যান্য বর্জ্য এখন সরোবরের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

বর্তমানে পুরো জলাশয়ের বড় অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। আগের মতো পানিতে মাছের বিচরণও চোখে পড়ে না। আশপাশের এলাকাতেও বেড়েছে ঝোপঝাড়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঝোপঝাড় বৃদ্ধির কারণে সাপের আনাগোনাও বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় সরোবর এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে বা কমে গেছে আগের মতো গানের আসর, চড়ুইভাতি ও পিকনিকের আয়োজন।

শিক্ষার্থীরা জানান, আগে শীত মৌসুমে সরোবরটিতে অনেক অতিথি পাখি আসত। বর্তমানে পাখির সংখ্যা কমে গেছে এবং এলেও আগের মতো দীর্ঘ সময় অবস্থান করছে না। তাঁদের ধারণা, কচুরিপানায় জলাশয় ভরে যাওয়ায় পাখিদের জন্য অনুকূল পরিবেশও নষ্ট হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘদিনের অযত্নের পাশাপাশি যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা সরোবরটির পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, মীর মুগ্ধ সরোবরটি দ্রুত পরিষ্কার করার পাশাপাশি চড়ুইভাতি ও পিকনিকের পর বর্জ্য অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে জলাশয়টির সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোবারক বলেন, একসময় সরোবরটির সৌন্দর্য সবাইকে আকৃষ্ট করত। শিক্ষার্থীরা মজা করে এটিকে ‘ইবির হাতিরঝিল’ নামে ডাকতেন। রাতে আলোকসজ্জিত সেতু, স্বচ্ছ পানিতে মাছের বিচরণ এবং শীতকালে অতিথি পাখির উপস্থিতি পরিবেশটিকে আরও সুন্দর করে তুলত।

তিনি বলেন, বর্তমানে অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে সেই পরিবেশ আর নেই। কচুরিপানায় জলাশয় ভরে গেছে এবং আশপাশের এলাকাও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সরোবরটি আবার সুন্দর ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান বলেন, মনোরম পরিবেশ ও স্বচ্ছ পানির কারণে জায়গাটি শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তির অন্যতম স্থান ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্নে ‘গরিবের হাতিরঝিল’ নামে পরিচিত জায়গাটির বর্তমান অবস্থা হতাশাজনক।

তিনি বলেন, বর্তমানে সরোবরের স্বচ্ছ পানি দেখা তো দূরের কথা, অনেক জায়গায় পানির অস্তিত্বও বোঝা কঠিন। পাশাপাশি লেকের আশপাশের বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলায় পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন। সরোবরটি পরিষ্কার করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও মনোরম পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অফিস প্রধান আলাউদ্দিন বলেন, সরোবর থেকে কচুরিপানা অপসারণে উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন। সাধারণ শ্রমিকরা পানিতে নেমে কাজ করতে আগ্রহী না হওয়ায় এ কাজে জেলেদের প্রয়োজন হয়। তাঁদের পারিশ্রমিকও তুলনামূলক বেশি।

তিনি জানান, মীর মুগ্ধ সরোবর পরিষ্কার করতে অন্তত এক লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে বৃষ্টি না হলে শিগগিরই পানির পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন কচুরিপানা অপসারণ তুলনামূলক সহজ ও কম ব্যয়ে করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বাগেরহাটে নসিমনের সঙ্গে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

কচুরিপানা ও প্লাস্টিক বর্জ্যে নষ্ট ইবির মীর মুগ্ধ সরোবরের সৌন্দর্য

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

একসময় স্বচ্ছ পানিতে মাছের বিচরণ, শীতের অতিথি পাখির আনাগোনা আর আলো ঝলমলে সেতুর সৌন্দর্যে শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মীর মুগ্ধ সরোবর। তবে বর্তমানে কচুরিপানা ও বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্যে সরোবরটির সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। চড়ুইভাতি ও পিকনিক শেষে ফেলে যাওয়া বোতল, পলিথিন ও খাবারের প্যাকেটও বাড়াচ্ছে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে প্রকৌশল ভবন ও মেডিকেল সেন্টারের পেছনে অবস্থিত জলাশয়টি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অন্যতম বিনোদন ও আড্ডার স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার পর এটি ‘ইবি লেক’ নামে পরিচিত ছিল। পরে ‘মফিজ লেক’ নামে পরিচিতি পায়। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জলাশয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’ রাখা হয়।

কয়েক বছর আগে আকিজ গ্রুপের অর্থায়নে লেকের ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু, উত্তর-পশ্চিম পাশে একটি ওয়াচ টাওয়ার এবং বসার জায়গা নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে লেকটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও করা হয়েছিল। সেতুতে আলোকসজ্জা থাকায় সন্ধ্যার পর এর সৌন্দর্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত। স্বচ্ছ পানি, সবুজ পরিবেশ ও রাতের আলোকসজ্জার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকে মজা করে জায়গাটিকে ‘ইবির হাতিরঝিল’ বলতেন।

শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমনে সরোবরটির পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। পাখির কলকাকলির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আড্ডা, চড়ুইভাতি ও পিকনিকের জন্যও এটি ছিল জনপ্রিয় স্থান। তবে বিভিন্ন আয়োজন শেষে ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ অন্যান্য বর্জ্য এখন সরোবরের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

বর্তমানে পুরো জলাশয়ের বড় অংশ কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। আগের মতো পানিতে মাছের বিচরণও চোখে পড়ে না। আশপাশের এলাকাতেও বেড়েছে ঝোপঝাড়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঝোপঝাড় বৃদ্ধির কারণে সাপের আনাগোনাও বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় সরোবর এলাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে বা কমে গেছে আগের মতো গানের আসর, চড়ুইভাতি ও পিকনিকের আয়োজন।

শিক্ষার্থীরা জানান, আগে শীত মৌসুমে সরোবরটিতে অনেক অতিথি পাখি আসত। বর্তমানে পাখির সংখ্যা কমে গেছে এবং এলেও আগের মতো দীর্ঘ সময় অবস্থান করছে না। তাঁদের ধারণা, কচুরিপানায় জলাশয় ভরে যাওয়ায় পাখিদের জন্য অনুকূল পরিবেশও নষ্ট হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘদিনের অযত্নের পাশাপাশি যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার প্রবণতা সরোবরটির পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, মীর মুগ্ধ সরোবরটি দ্রুত পরিষ্কার করার পাশাপাশি চড়ুইভাতি ও পিকনিকের পর বর্জ্য অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে জলাশয়টির সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোবারক বলেন, একসময় সরোবরটির সৌন্দর্য সবাইকে আকৃষ্ট করত। শিক্ষার্থীরা মজা করে এটিকে ‘ইবির হাতিরঝিল’ নামে ডাকতেন। রাতে আলোকসজ্জিত সেতু, স্বচ্ছ পানিতে মাছের বিচরণ এবং শীতকালে অতিথি পাখির উপস্থিতি পরিবেশটিকে আরও সুন্দর করে তুলত।

তিনি বলেন, বর্তমানে অবহেলা ও পরিচর্যার অভাবে সেই পরিবেশ আর নেই। কচুরিপানায় জলাশয় ভরে গেছে এবং আশপাশের এলাকাও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য সরোবরটি আবার সুন্দর ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান বলেন, মনোরম পরিবেশ ও স্বচ্ছ পানির কারণে জায়গাটি শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তির অন্যতম স্থান ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্নে ‘গরিবের হাতিরঝিল’ নামে পরিচিত জায়গাটির বর্তমান অবস্থা হতাশাজনক।

তিনি বলেন, বর্তমানে সরোবরের স্বচ্ছ পানি দেখা তো দূরের কথা, অনেক জায়গায় পানির অস্তিত্বও বোঝা কঠিন। পাশাপাশি লেকের আশপাশের বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলায় পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন। সরোবরটি পরিষ্কার করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও মনোরম পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট অফিস প্রধান আলাউদ্দিন বলেন, সরোবর থেকে কচুরিপানা অপসারণে উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন। সাধারণ শ্রমিকরা পানিতে নেমে কাজ করতে আগ্রহী না হওয়ায় এ কাজে জেলেদের প্রয়োজন হয়। তাঁদের পারিশ্রমিকও তুলনামূলক বেশি।

তিনি জানান, মীর মুগ্ধ সরোবর পরিষ্কার করতে অন্তত এক লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে বৃষ্টি না হলে শিগগিরই পানির পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন কচুরিপানা অপসারণ তুলনামূলক সহজ ও কম ব্যয়ে করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।