ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
বরিশালের ১২ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা

এজলাসে হট্টগোলের ঘটনায় আইনজীবী নেতা লিংকন কারাগারে

অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতের এজলাসে হট্টগোলের ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আদালতের গারদখানা থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে আইনজীবী সমিতির মূল ভবনের দোতলায় তার ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন। গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আইনজীবীরা দিনভর আদালতের গারদখানার সামনে বিক্ষোভ করেন এবং তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এদিন আদালতের নিয়মিত কার্যক্রমও বন্ধ থাকে।

আদালত অবমাননার অভিযোগে লিংকনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়েছে। লিংকন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা সভাপতি। মামলার অন্য আসামিরাও বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল নেতা বলে জানা গেছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখলেসুর বাচ্চু জানান, গ্রেপ্তারের পর লিংকনকে প্রথমে মহানগর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখান থেকে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে বেলা সোয়া ৩টার দিকে বিচারক আবেদনটি গ্রহণ করেন। তবে আদেশ না দিয়ে আগামী ২ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, লিংকনের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অপসারণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বরিশালের আইনজীবীরা সব আদালত বর্জন করবেন।

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস গত সোমবার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ করেন। বেলা ২টার দিকে তারা অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে প্রবেশ করে হট্টগোল করলে বিচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাটির ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা আদালত এলাকায় অবস্থান নেন এবং পরে আইনজীবী সমিতি ভবনে গিয়ে লিংকনকে আটক করেন। এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনজীবীরা বিক্ষোভে সামিল হন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালের ১২ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা

এজলাসে হট্টগোলের ঘটনায় আইনজীবী নেতা লিংকন কারাগারে

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আদালতের এজলাসে হট্টগোলের ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আদালতের গারদখানা থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে আইনজীবী সমিতির মূল ভবনের দোতলায় তার ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন। গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আইনজীবীরা দিনভর আদালতের গারদখানার সামনে বিক্ষোভ করেন এবং তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। এদিন আদালতের নিয়মিত কার্যক্রমও বন্ধ থাকে।

আদালত অবমাননার অভিযোগে লিংকনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়েছে। লিংকন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা সভাপতি। মামলার অন্য আসামিরাও বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল নেতা বলে জানা গেছে।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোখলেসুর বাচ্চু জানান, গ্রেপ্তারের পর লিংকনকে প্রথমে মহানগর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সেখান থেকে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার পক্ষে জামিন আবেদন করা হলে বেলা সোয়া ৩টার দিকে বিচারক আবেদনটি গ্রহণ করেন। তবে আদেশ না দিয়ে আগামী ২ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, লিংকনের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের অপসারণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বরিশালের আইনজীবীরা সব আদালত বর্জন করবেন।

উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস গত সোমবার অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা মঙ্গলবার আদালত বর্জন ও বিক্ষোভ করেন। বেলা ২টার দিকে তারা অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে প্রবেশ করে হট্টগোল করলে বিচার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাটির ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা আদালত এলাকায় অবস্থান নেন এবং পরে আইনজীবী সমিতি ভবনে গিয়ে লিংকনকে আটক করেন। এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনজীবীরা বিক্ষোভে সামিল হন।