ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

বদলগাছীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পুকুর খনন নিয়ে উদ্বেগ

বদলগাছীর মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে গভীর রাতে পুকুর খনন ।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় ভবন থেকে প্রায় চার ফুট দূরত্বে এক একর জায়গাজুড়ে গভীর খননকাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই খননকাজ শুরু করেছেন। এতে ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝামাঝি স্থানে পুকুরটি খনন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, খননের গভীরতা ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। খননকাজে এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উত্তোলিত মাটি ট্রাক্টরে করে একটি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, রাতে খননকাজ চালিয়ে মাটি বিক্রি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে আপাতত কাজ বন্ধ থাকলেও বিদ্যালয়ের পাশে গভীর গর্ত থাকায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধের কথাও ভাবছেন কেউ কেউ।

মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলেন, খনন শুরুর সময় বাধা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে গভীর গর্ত থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিপজ্জনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খননস্থলটি মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি। সেখানে আগে একটি ডোবার মতো জায়গা ছিল। তবে পুকুর খননের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, জমিটি উচ্চ বিদ্যালয়ের এবং বিদ্যালয়ের স্বার্থেই পুকুর খনন করা হচ্ছে। মাটি বিক্রির বিষয়ে তিনি জানান, স্কুলের প্রয়োজনে তা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক অনুমতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন জানান, সভাপতি মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন, তবে এ নিয়ে কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক রেজুলেশন হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এমন খনন নিরাপদ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি জানান, খবর পাওয়ার পর খননকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

বদলগাছীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পুকুর খনন নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় ভবন থেকে প্রায় চার ফুট দূরত্বে এক একর জায়গাজুড়ে গভীর খননকাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই খননকাজ শুরু করেছেন। এতে ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝামাঝি স্থানে পুকুরটি খনন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, খননের গভীরতা ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। খননকাজে এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উত্তোলিত মাটি ট্রাক্টরে করে একটি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, রাতে খননকাজ চালিয়ে মাটি বিক্রি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে আপাতত কাজ বন্ধ থাকলেও বিদ্যালয়ের পাশে গভীর গর্ত থাকায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তাদের ভাষ্য, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধের কথাও ভাবছেন কেউ কেউ।

মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলেন, খনন শুরুর সময় বাধা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে গভীর গর্ত থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিপজ্জনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খননস্থলটি মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি। সেখানে আগে একটি ডোবার মতো জায়গা ছিল। তবে পুকুর খননের বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, জমিটি উচ্চ বিদ্যালয়ের এবং বিদ্যালয়ের স্বার্থেই পুকুর খনন করা হচ্ছে। মাটি বিক্রির বিষয়ে তিনি জানান, স্কুলের প্রয়োজনে তা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক অনুমতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত হোসেন জানান, সভাপতি মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন, তবে এ নিয়ে কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক রেজুলেশন হয়নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এমন খনন নিরাপদ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি জানান, খবর পাওয়ার পর খননকাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।