
নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামান। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়ও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস টিটিসির সম্মেলনকক্ষে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যম : সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন উপাচার্য।
সভায় উপাচার্য জানান, আগের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়মবহির্ভূত কিছু অসঙ্গতি পাওয়ায় চারজন শিক্ষকের বেতন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ির তেল ব্যবহারের অভিযোগে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
উপাচার্য বলেন, সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শিক্ষকদেরও সর্বোচ্চ মেধাবী হওয়া প্রয়োজন। মেধাবী জাতি গঠনের লক্ষ্যেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে সক্ষম না হলে তিনি নীরবে সরে যাবেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বসে একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট নিয়েও কথা বলেন উপাচার্য। তিনি জানান, কাজের ক্ষেত্রে অবহেলা করে চলে যাওয়া কিছু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সম্পন্ন না হওয়ায় তারা আইনি লড়াইয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায়ও দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা ছিল বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য। তার ভাষ্য, এতদিন প্রতিষ্ঠানটি অনেক ক্ষেত্রে নিয়মের বাইরে পরিচালিত হয়েছে। এমনকি একজন চালক একজন শিক্ষককে নাম ধরে ডাকতেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে চেইন অব কমান্ড ও শিক্ষার উপযোগী পরিবেশের ঘাটতি ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে এসব সমস্যা দূর করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে জানান উপাচার্য।
তিনি বলেন, ‘আমি সম্প্রতি যোগদান করেই আগে জঞ্জাল সরাতে কাজ করছি।’
মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের টিচার ইনচার্জ ড. সাদ্দাম হুসাইন এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ এমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
অধিকার ডেস্কঃ 






















