ঢাকা ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
ট্রাকে টিসিবির পণ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, ফিরছেন অনেকে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে টিসিবির ট্রাক সেলের মাধ্যমে পণ্য কিনতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দীর্ঘ সারি। জেলার পাঁচ উপজেলায় ট্রাকে পণ্য বিক্রি হলেও প্রতিদিন শূন্য হাতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক সেলের মাধ্যমে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রিতে ভিড় বাড়লেও সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিনই অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। জেলার পাঁচটি উপজেলায় পণ্য বিক্রি হলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ সীমিত বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

শনিবার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ট্রাক সেলের সামনে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দেওয়ানজাইগীর গ্রামের মর্জিনা খাতুন ভোরে এসে লাইনে দাঁড়ান। প্রায় সাত ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেলে তিনি পণ্য পান। তবে তাঁর শাশুড়ি আসমা তিন ঘণ্টা লাইনে থেকেও কোনো পণ্য না পেয়ে ফিরে যান। এদিন অন্তত ৩০ জন পণ্য ছাড়াই বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য না পাওয়া আসমা বলেন, ছেলের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি এসেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত পরিমাণ পণ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে ফিরতে হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করেন, একই পরিবারের একাধিক সদস্য লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও আঙুলে অমোচনীয় কালি দেওয়ার ব্যবস্থা আছে, তবুও বড় পরিবার বা বেকার সদস্য বেশি থাকলে কেউ কেউ একাধিকবার সুবিধা নিচ্ছেন বলে দাবি তাদের।

সোনামসজিদ বন্দরে কর্মরত এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আহাদ বলেন, কালি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনিয়ম পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে প্রকৃত অনেক ক্রেতা বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটি পয়েন্টে ৪০০ জনের জন্য পণ্য বিক্রি করা হয়। আগের দিন শাহবাজপুর ইউনিয়নেও একই পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল; সেখানেও ৫০ জনের বেশি ক্রেতা পণ্য না পেয়ে ফিরে যান।

৫৯০ টাকার একটি প্যাকেজে একজন ক্রেতা এক কেজি চিনি (৮০ টাকা), দুই কেজি মসুর ডাল (১৪০ টাকা), দুই লিটার ভোজ্যতেল (২৩০ টাকা), এক কেজি ছোলা (৬০ টাকা) এবং আধা কেজি খেজুর (৮০ টাকা) কিনতে পারছেন।

জেলা সদরসহ শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় একজন করে ডিলার প্রতিদিন মোট প্রায় দুই হাজার কেজি পণ্য বিক্রি করেন। কোন ইউনিয়নে কোন দিন ট্রাক যাবে, তা আগের দিন বিকেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে জানানো হয়। তবে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় অনেকেই সময়মতো তথ্য পাচ্ছেন না—এ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাকে টিসিবির পণ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, ফিরছেন অনেকে

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক সেলের মাধ্যমে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) পণ্য বিক্রিতে ভিড় বাড়লেও সরবরাহ কম থাকায় প্রতিদিনই অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। জেলার পাঁচটি উপজেলায় পণ্য বিক্রি হলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ সীমিত বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

শনিবার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে ট্রাক সেলের সামনে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দেওয়ানজাইগীর গ্রামের মর্জিনা খাতুন ভোরে এসে লাইনে দাঁড়ান। প্রায় সাত ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেলে তিনি পণ্য পান। তবে তাঁর শাশুড়ি আসমা তিন ঘণ্টা লাইনে থেকেও কোনো পণ্য না পেয়ে ফিরে যান। এদিন অন্তত ৩০ জন পণ্য ছাড়াই বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য না পাওয়া আসমা বলেন, ছেলের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি এসেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত পরিমাণ পণ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে ফিরতে হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করেন, একই পরিবারের একাধিক সদস্য লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও আঙুলে অমোচনীয় কালি দেওয়ার ব্যবস্থা আছে, তবুও বড় পরিবার বা বেকার সদস্য বেশি থাকলে কেউ কেউ একাধিকবার সুবিধা নিচ্ছেন বলে দাবি তাদের।

সোনামসজিদ বন্দরে কর্মরত এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আহাদ বলেন, কালি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনিয়ম পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে প্রকৃত অনেক ক্রেতা বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটি পয়েন্টে ৪০০ জনের জন্য পণ্য বিক্রি করা হয়। আগের দিন শাহবাজপুর ইউনিয়নেও একই পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল; সেখানেও ৫০ জনের বেশি ক্রেতা পণ্য না পেয়ে ফিরে যান।

৫৯০ টাকার একটি প্যাকেজে একজন ক্রেতা এক কেজি চিনি (৮০ টাকা), দুই কেজি মসুর ডাল (১৪০ টাকা), দুই লিটার ভোজ্যতেল (২৩০ টাকা), এক কেজি ছোলা (৬০ টাকা) এবং আধা কেজি খেজুর (৮০ টাকা) কিনতে পারছেন।

জেলা সদরসহ শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় একজন করে ডিলার প্রতিদিন মোট প্রায় দুই হাজার কেজি পণ্য বিক্রি করেন। কোন ইউনিয়নে কোন দিন ট্রাক যাবে, তা আগের দিন বিকেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারকে জানানো হয়। তবে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় অনেকেই সময়মতো তথ্য পাচ্ছেন না—এ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।