ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

গানবাজনা নিষিদ্ধ’ সিদ্ধান্তে বিতর্ক, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আশ্বাস

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর-৩ আসন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে সমাজ সংস্কারের নামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। মসজিদ কমিটি তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রামে অবস্থিত একটি জামে মসজিদের কমিটি প্রায় দুই মাস আগে ‘গানবাজনা বা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামে একটি নোটিশ জারি করে। এতে গ্রামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

নোটিশে বলা হয়, গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার স্বার্থে গান-বাজনা ও তথাকথিত অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর হওয়ায় তা বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে গানবাজনা হলে সেখানে স্থানীয় আলেমরা ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে পড়াতে যাবেন না।

এ নোটিশে মসজিদ কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসীর পক্ষে ৩৪ জন স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি জানাতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুনও টানানো হয়।

তবে এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কেউ এটিকে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও অনেকেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দেয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল (রাজন) মসজিদ কমিটির সদস্যদের ডেকে পাঠান। তিনি জানান, মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে কয়েকজন সদস্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন যে, তারা বিষয়টি পুরোপুরি না বুঝেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে তারা ভুল স্বীকার করেন এবং সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে লিখিতভাবে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে ওই মসজিদের ইমাম আবদুল মালিক বিন খালেদুর রহমান সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে। এলাকার এক শিক্ষার্থী ওলিউল হক বলেন, গ্রামের আলেমরা সমাজের ভালোর কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং অনেকেই মনে করেন তা মেনে চলা উচিত।

গ্রামের কয়েকজন নারী জানান, আগে বিয়েবাড়িতে গীত গাওয়া বা সাউন্ডবক্সে গান বাজানোর বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ছিল। এছাড়া কিশোরদের পিকনিক বা আড্ডায় সাউন্ডবক্সে গান বাজানোও বন্ধ ছিল।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা দুঃখজনক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভুল স্বীকার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

গানবাজনা নিষিদ্ধ’ সিদ্ধান্তে বিতর্ক, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আশ্বাস

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে সমাজ সংস্কারের নামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। মসজিদ কমিটি তাদের নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার চরাঞ্চলের ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রামে অবস্থিত একটি জামে মসজিদের কমিটি প্রায় দুই মাস আগে ‘গানবাজনা বা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামে একটি নোটিশ জারি করে। এতে গ্রামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

নোটিশে বলা হয়, গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার স্বার্থে গান-বাজনা ও তথাকথিত অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর হওয়ায় তা বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে গানবাজনা হলে সেখানে স্থানীয় আলেমরা ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে পড়াতে যাবেন না।

এ নোটিশে মসজিদ কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসীর পক্ষে ৩৪ জন স্বাক্ষর করেন। বিষয়টি জানাতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুনও টানানো হয়।

তবে এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কেউ এটিকে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও অনেকেই ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দেয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল (রাজন) মসজিদ কমিটির সদস্যদের ডেকে পাঠান। তিনি জানান, মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে কয়েকজন সদস্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন যে, তারা বিষয়টি পুরোপুরি না বুঝেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে তারা ভুল স্বীকার করেন এবং সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে লিখিতভাবে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে ওই মসজিদের ইমাম আবদুল মালিক বিন খালেদুর রহমান সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে। এলাকার এক শিক্ষার্থী ওলিউল হক বলেন, গ্রামের আলেমরা সমাজের ভালোর কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং অনেকেই মনে করেন তা মেনে চলা উচিত।

গ্রামের কয়েকজন নারী জানান, আগে বিয়েবাড়িতে গীত গাওয়া বা সাউন্ডবক্সে গান বাজানোর বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ছিল। এছাড়া কিশোরদের পিকনিক বা আড্ডায় সাউন্ডবক্সে গান বাজানোও বন্ধ ছিল।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা দুঃখজনক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ভুল স্বীকার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।