
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নং স্পার বাধ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের খবরের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকরামুল হক নাহিদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর সদস্যরা।
ঘটনাটি ঘটেছে ৮ই মার্চ /২০২৬ রোববার দিবাগত মধ্যরাতে, কিন্তু অভিযানের খবরে অপরাধীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। তবে অভিযানকারীদের সতর্কতায় ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা) এর সামনে থেকে একটি মাটিভর্তি ট্রাক্টরসহ সাকিব রানা (১৯) নামক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ৮ নং স্পার বাধ এলাকা থেকে পদ্মা নদী হতে মাটি উত্তোলন করে বিএমএইচ ব্রিকসে পরিবহন করছিলেন।
এ ঘটনায় ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হক (৬১)-ও দায় স্বীকার করেন। উভয়ের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সাকিব রানাকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, পাশাপাশি বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অর্থাৎ মোট ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। এছাড়া আলহাজ্ব এনামুল হককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই অভিযান এবং আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ, যিনি পবিত্র মাহে রমজান মাসে সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে রাতেও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সচেষ্টভাবে পালন করেছেন।
কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ।
স্থানীয়দের মধ্যে এই অভিযানকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং বলা হচ্ছে, এটি পদ্মা নদীর অবৈধ মাটি উত্তোলন রোধে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতীক। প্রশাসনের এই সতর্ক পদক্ষেপ আগামীতে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















