ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

রমজানে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ইতিকাফ, প্রস্তুতি সম্পন্ন

সংগৃহীত ছবি।

১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকে মুসল্লিরা আজ থেকে ইতিকাফ শুরু করবেন। সন্ধ্যার আগেই মসজিদে প্রবেশ করে তারা টানা ১০ দিন নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া এবং অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর নিকট নিবেদিত রাখবেন। ঈদের আগের দিন সূর্যাস্তের পর নতুন চাঁদ দেখা মাত্র ইতিকাফ সম্পন্ন করে তারা মসজিদ থেকে বের হবেন।

রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে ইতিকাফ পালনকারীদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মসজিদের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, এবং মুসল্লিরা নিজ ঘর থেকে বিছানা, বালিশ, মশারিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। ইফতার ও সাহারির জন্যও অনেকেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, পবিত্র রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া। অর্থাৎ মহল্লার অন্তত একজন ব্যক্তি এটি পালন করলে সকলেই দায়মুক্ত হন, অন্যথায় সবাই গুনাহগার হবেন।

ইতিকাফ শব্দটির অর্থ হলো ‘অবস্থান করা’। সাধারণ জীবনে মানুষ বিভিন্ন দায়িত্ব ও ব্যস্ততায় নিমগ্ন থাকে, কিন্তু ইতিকাফ তাকে সাময়িকভাবে সব দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে আসে। এই সময় ইতিকাফকারী তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, নফল নামাজসহ বিভিন্ন ইবাদতে নিজেকে নিমগ্ন রাখেন, যার ফলে অন্তর পরিশুদ্ধ হয়, তাকওয়া বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় ও মজবুত হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতিকাফের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং প্রতি বছর রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ পালন করতেন। সাহাবায়ে কেরামও এই আমল গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেছেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক রমজানে শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৪৪)।

অন্য হাদিসে ইতিকাফকারীর জন্য হজের সওয়াবের কথা উল্লেখ আছে। হোসাইন ইবনে আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, “রমজানের শেষ দশকে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করবে, সে দুটি হজ অথবা ওমরার সওয়াব পাবে” (শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৯৬৬)।

আরেকটি হাদিসে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় ইতিকাফ করবে, তার পূর্ববর্তী সকল ছোট গুনাহ ক্ষমা করা হবে” (জামে সগির, হাদিস : ১২২৩০)।

এবারের রমজানেও শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ পালন করে মুসল্লিরা আল্লাহর নিকট অতিরিক্ত সওয়াব অর্জন করতে পারবেন এবং আত্মা পরিশুদ্ধির সুযোগ পাবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

রমজানে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ইতিকাফ, প্রস্তুতি সম্পন্ন

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

১৪৪৭ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকে মুসল্লিরা আজ থেকে ইতিকাফ শুরু করবেন। সন্ধ্যার আগেই মসজিদে প্রবেশ করে তারা টানা ১০ দিন নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া এবং অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর নিকট নিবেদিত রাখবেন। ঈদের আগের দিন সূর্যাস্তের পর নতুন চাঁদ দেখা মাত্র ইতিকাফ সম্পন্ন করে তারা মসজিদ থেকে বের হবেন।

রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে ইতিকাফ পালনকারীদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মসজিদের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, এবং মুসল্লিরা নিজ ঘর থেকে বিছানা, বালিশ, মশারিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। ইফতার ও সাহারির জন্যও অনেকেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী, পবিত্র রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া। অর্থাৎ মহল্লার অন্তত একজন ব্যক্তি এটি পালন করলে সকলেই দায়মুক্ত হন, অন্যথায় সবাই গুনাহগার হবেন।

ইতিকাফ শব্দটির অর্থ হলো ‘অবস্থান করা’। সাধারণ জীবনে মানুষ বিভিন্ন দায়িত্ব ও ব্যস্ততায় নিমগ্ন থাকে, কিন্তু ইতিকাফ তাকে সাময়িকভাবে সব দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে মুক্ত করে আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে আসে। এই সময় ইতিকাফকারী তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া, নফল নামাজসহ বিভিন্ন ইবাদতে নিজেকে নিমগ্ন রাখেন, যার ফলে অন্তর পরিশুদ্ধ হয়, তাকওয়া বৃদ্ধি পায় এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় ও মজবুত হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতিকাফের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং প্রতি বছর রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ পালন করতেন। সাহাবায়ে কেরামও এই আমল গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেছেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক রমজানে শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০৪৪)।

অন্য হাদিসে ইতিকাফকারীর জন্য হজের সওয়াবের কথা উল্লেখ আছে। হোসাইন ইবনে আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, “রমজানের শেষ দশকে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করবে, সে দুটি হজ অথবা ওমরার সওয়াব পাবে” (শুআবুল ইমান, হাদিস : ৩৯৬৬)।

আরেকটি হাদিসে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় ইতিকাফ করবে, তার পূর্ববর্তী সকল ছোট গুনাহ ক্ষমা করা হবে” (জামে সগির, হাদিস : ১২২৩০)।

এবারের রমজানেও শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ পালন করে মুসল্লিরা আল্লাহর নিকট অতিরিক্ত সওয়াব অর্জন করতে পারবেন এবং আত্মা পরিশুদ্ধির সুযোগ পাবেন।