
নাটোরের নলডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি (ক্যাম্প) অফিসে দলিল লেখক ও দালালদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম বন্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চালু হওয়ার পর থেকেই সেখানে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ। দলিল লেখক ও দালালদের ওই চক্রের কারণে সাধারণ ভূমি মালিকদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে এবং জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলিল লেখক সমিতির একাধিক সদস্য জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে ভূমি মালিকদের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে করে অতিরিক্ত ফি আদায় ও অস্পষ্ট প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা বলেন, রেজিস্ট্রেশন ফি’র তালিকা প্রকাশ্যে টানানো হলে খরচে স্বচ্ছতা আসবে এবং সিন্ডিকেটের আধিপত্য কমবে।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সিন্ডিকেটের কাছে ভুক্তভোগী ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হুমায়ুন রশিদ অভিযোগ করে বলেন, “নলডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে হয়। এমনকি দ্বিতীয় ওয়ারিশ হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হয়। টাকা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় না—এমন পরিস্থিতিতে আমাদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।”
নলডাঙ্গা পৌর সমবায় দলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “রেজিস্ট্রি অফিসে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে এবং কোথাও নির্ধারিত ফি’র তালিকা টানানো নেই। অনেকেই আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপির কাছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
নলডাঙ্গা উপজেলা জাসাস দলের সভাপতি ও পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস এম সান্টু বলেন, “সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। ২০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে একজন মুহুরী কীভাবে ৪৩ হাজার টাকা গ্রহণ করে, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। আমরা চাই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম পরিচালিত হোক।”
তিনি আরও বলেন, সকল অফিস-আদালত দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। কোথাও দুর্নীতি হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। নলডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নির্ধারিত ফি তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা দলিল লেখক সমিতির সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম বলেন, “অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত ফি’র তালিকা প্রকাশ, দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। এতে সাধারণ ভূমি মালিকদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরবে।
সাজেদুর রহমান, নাটোর 



















