
গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্লিমার ফ্যাশনস লিমিটেড কারখানায় মালামাল লুট, গাড়িচালককে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ছয় দিন পরও মামলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কারখানার চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। তবে অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর দুপুরে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন বিসিক শিল্প এলাকার কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। কারখানার ডেপুটি ম্যানেজার মো. লিয়াকত হোসেনের দেওয়া লিখিত অভিযোগে নুরুজ্জামানের নির্দেশনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মালামাল লুট, গাড়িচালককে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বুধবার দুপুর ১টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে শাহিন, পিয়াস, ছোট শাহিন, মোরশেদ, ফারুক ও মাহিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজন কারখানায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কারখানার সামনে থাকা একটি কভারভ্যানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের কাপড় লোড করা ছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই মালামালসহ গাড়িচালককে নিয়ে যান। পরে চালককে মারধর করে আটকে রাখা হয়। অন্য একটি গাড়িতে করে কিছু মালামাল কারখানার সামনে রেখে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী মো. সোহেলকে মারধর ও তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কারখানার সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধারণ হয়ে থাকতে পারে। তদন্তের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ, মালামালের চালান, ডেলিভারি ডকুমেন্ট ও ইনভয়েসসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মামলা না হওয়ায় চেয়ারম্যানের উদ্বেগ
লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ছয় দিন পরও মামলা না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গ্লিমার ফ্যাশনস লিমিটেডের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম।
তাঁর অভিযোগ, মামলা করার জন্য একাধিকবার টঙ্গী পূর্ব থানায় গেলেও মামলা করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা নুরুজ্জামানের নাম বাদ দিয়ে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মামলা দিতে গেলে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামানের নাম পরিবর্তন করে অভিযোগ নিয়ে আসতে বলেছেন। আমরা কয়েকবার থানায় গেলেও মামলা করতে পারিনি। দিনের আলোতে প্রকাশ্যে এসে মালামাল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের ড্রাইভারকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অথচ ওসি আমাদের চুরির মামলা করতে বলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। মামলা না হওয়ায় আমরা নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।’
পুলিশের বক্তব্য
গ্লিমার ফ্যাশনসের অভিযোগের বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, ঘটনার সময় নুরুজ্জামান ঢাকার বাইরে ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও তাঁকে দেখা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
তবে বিষয়টি তদন্ত করা হবে উল্লেখ করে ওসি বলেন, যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুরির মামলা করতে বলা হয়েছে—প্রতিষ্ঠানটির এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মাকসুদুল আলম বলেন, ‘চুরির মামলা করার বিষয়টি আমি বলিনি। তারা থানায় এসে মামলা করুক। সিসিটিভি ফুটেজে যাদের দেখা যাচ্ছে, তাদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নুরুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগে নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা শ্রমিক দল নেতা নুরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নুরুজ্জামান টঙ্গীর বিসিক এলাকায় জুটসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় অনেকের কাছে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি শ্রমিক দল নেতা হিসেবে পরিচিতি পান এবং জুটসহ বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নুরুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অধিকার ডেস্কঃ 



















