ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ২৫ হাজার গ্রাহক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঝড়ের তাণ্ডব: আমবাগান ও ঘরবাড়ির ক্ষতি

গোমস্তাপুর উপজেলার আলিনগরের বাড়িটি রোববার রাতের ঝড়ে ধসে পড়ে। সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হঠাৎ বয়ে যাওয়া তীব্র ঝড়ে বিভিন্ন উপজেলার ঘরবাড়ি, গাছপালা ও আমবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে পল্লী বিদ্যুতের একাধিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহককে টানা ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছাড়াই থাকতে হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) রাত প্রায় ৯টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

বিশেষ করে পানির মোটর চালাতে না পারায় অনেক পরিবার গৃহস্থালি কাজে সংকটে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।

ভোলাহাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ইব্রাহীম জানান, ডাকবাংলো এলাকায় একসঙ্গে চারটি খুঁটি ভেঙে পড়াসহ মোট আটটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামতে কারিগরি দল কাজ করছে বলে তিনি জানান।

এদিকে ঝড়ের প্রভাবে জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষিরা। রহনপুরের আমচাষি আব্দুর রাজ্জাক ও শিবগঞ্জের মোজতবা আলম জানান, গাছে সদ্য মুকুল থেকে বের হওয়া আমের গুটি ঝড়ের আঘাতে ব্যাপকভাবে ঝরে গেছে। অনেক জায়গায় বড় বড় আমগাছও ভেঙে পড়েছে, ফলে এবার ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

অন্যদিকে গোমস্তাপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ঝড়ের তীব্রতায় কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের টিনের চাল উড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আলিনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, ঝড়ের সময় তার ঘরের চাল উড়ে গেলে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির আলী মুন্সি জানান, ঝড়ে ঘরবাড়ি ও কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ২৫ হাজার গ্রাহক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঝড়ের তাণ্ডব: আমবাগান ও ঘরবাড়ির ক্ষতি

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:০৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হঠাৎ বয়ে যাওয়া তীব্র ঝড়ে বিভিন্ন উপজেলার ঘরবাড়ি, গাছপালা ও আমবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের কারণে পল্লী বিদ্যুতের একাধিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহককে টানা ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছাড়াই থাকতে হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) রাত প্রায় ৯টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

বিশেষ করে পানির মোটর চালাতে না পারায় অনেক পরিবার গৃহস্থালি কাজে সংকটে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।

ভোলাহাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ইব্রাহীম জানান, ডাকবাংলো এলাকায় একসঙ্গে চারটি খুঁটি ভেঙে পড়াসহ মোট আটটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মেরামতে কারিগরি দল কাজ করছে বলে তিনি জানান।

এদিকে ঝড়ের প্রভাবে জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমচাষিরা। রহনপুরের আমচাষি আব্দুর রাজ্জাক ও শিবগঞ্জের মোজতবা আলম জানান, গাছে সদ্য মুকুল থেকে বের হওয়া আমের গুটি ঝড়ের আঘাতে ব্যাপকভাবে ঝরে গেছে। অনেক জায়গায় বড় বড় আমগাছও ভেঙে পড়েছে, ফলে এবার ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

অন্যদিকে গোমস্তাপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ঝড়ের তীব্রতায় কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের টিনের চাল উড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আলিনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, ঝড়ের সময় তার ঘরের চাল উড়ে গেলে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির আলী মুন্সি জানান, ঝড়ে ঘরবাড়ি ও কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।