ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী মজুরি কমিশন গঠন হয়েছে, এখন আন্দোলনের সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী টুকু মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে অরাজকতার চেষ্টা, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ডিএনসিসি প্রশাসকের শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি, সতর্ক বিএনপি নেতাকর্মীরাও মিরপুর-১১-তে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, যান চলাচল স্বাভাবিক; আটক ৪ এইচএসসিতে শূন্য পাস ২৯৩ প্রতিষ্ঠানে, শাস্তির মুখে শিক্ষক-প্রতিষ্ঠানপ্রধান গোপালগঞ্জে ইয়াবা-গাঁজা ও ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকাসহ আটক ১ ডামুড্যায় গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হঠাৎ কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

শিক্ষিত বেকারত্ব: কেন তৈরি হচ্ছে ‘অপেক্ষার প্রজন্ম’

চাকরির অপেক্ষায় সনদ হাতে শিক্ষিত তরুণেরা; কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় বাড়ছে হতাশা (প্রতীকী ছবি)

হাতে সনদ, চোখে স্বপ্ন; কিন্তু সামনে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই। বছরের পর বছর চাকরির প্রস্তুতি, একের পর এক আবেদন আর পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় অসংখ্য শিক্ষিত তরুণের মূল্যবান সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। যে বয়সে কর্মজীবন গড়ে ওঠার কথা, সে বয়সেও অনেকে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল। প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষা যদি স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুলে দিতে না পারে, তবে শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য কোথায়?

শিক্ষিত বেকারত্ব কেবল চাকরির সংকট নয়। এটি শিক্ষা, শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মধ্যকার অসংগতিরই প্রতিফলন। প্রতিবছর স্নাতকের সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের যোগ্যতা কাজে লাগানোর মতো মানসম্মত কর্মসংস্থান পর্যাপ্ত তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। তরুণদের ভবিষ্যৎ যদি শুধু নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ও ফল প্রকাশের ওপর ঝুলে থাকে, তবে সমস্যাটি ব্যক্তির একার নয়, ব্যবস্থারও।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার ফল ও সনদ অর্জনকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, বাস্তব দক্ষতা অর্জনকে ততটা নয়। ফলে অনেক স্নাতক যোগাযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার, সমস্যা সমাধান ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকেন। নিয়োগদাতারা অভিজ্ঞতা চান, অথচ নতুনদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সীমিত। এতে তৈরি হয় এক নিষ্ঠুর চক্র: অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি মেলে না, আবার চাকরি ছাড়া অভিজ্ঞতাও হয় না।

তবে এ দায় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের সংযোগ দুর্বল হলে এবং ইন্টার্নশিপ ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকলে সনদধারী বেকারত্ব বাড়তেই থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে চলবে না; শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের উপযোগী করে তোলাও তাদের দায়িত্বের অংশ।

চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত আয় ও সামাজিক মর্যাদার প্রত্যাশা তরুণদের সরকারি চাকরির দিকে টানে। কিন্তু একটি পদের জন্য হাজারো প্রার্থী যখন বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন, তখন প্রশ্ন ওঠে, কর্মজীবনের প্রবেশদ্বার এত সংকীর্ণ কেন?

নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা পরিস্থিতি আরও কঠিন করছে। বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা, ফলাফল ও চূড়ান্ত নিয়োগের প্রতিটি ধাপে অযৌক্তিক বিলম্ব প্রার্থীদের সময়, অর্থ ও সম্ভাবনা নষ্ট করছে। তাই প্রতিটি ধাপে সময়সীমা নির্ধারণ, অগ্রগতি প্রকাশ এবং বিলম্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

শুধু সরকারি চাকরির প্রতি ঝোঁককে দোষ দিয়েও লাভ নেই। বেসরকারি খাতে ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও পেশাগত উন্নতির সুযোগ নিশ্চিত না হলে স্থিতিশীল চাকরির আকাঙ্ক্ষা কমবে কেন? বিকল্প কর্মসংস্থানকে বাস্তবসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ করাই এখানে মূল চ্যালেঞ্জ।

কাজ পেলেই কর্মসংস্থানের সমস্যা মেটে না। অনেক শিক্ষিত তরুণ নিজের শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কহীন কাজে যুক্ত হন, কেউ স্বল্প মজুরিতে কাজ করেন, আবার কেউ অনিশ্চিত অনানুষ্ঠানিক খাতে আটকে থাকেন। শিক্ষা ও দক্ষতার যথাযথ ব্যবহার না হলে ব্যক্তি যেমন বঞ্চিত হন, তেমনি জাতীয় উৎপাদনশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা, ব্যবসায়িক জটিলতা হ্রাস ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে, যাতে কাজের খোঁজে তরুণদের বড় শহরে ছুটতে না হয়।

প্রশিক্ষণ দিয়েই বেকারত্ব কমানো যাবে না, যদি প্রশিক্ষিতদের জন্য কাজ তৈরি না হয়। দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রথমত, কোন বিষয়ে কতজন স্নাতক হচ্ছেন, কোন খাতে কী দক্ষতার চাহিদা আছে এবং শিক্ষিত তরুণেরা কতটা কর্মসংস্থান পাচ্ছেন, এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। অনুমাননির্ভর পরিকল্পনা দিয়ে শ্রমবাজারের সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে।

তৃতীয়ত, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী তরুণদের জন্য অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শসেবা সহজলভ্য করতে হবে।

সবচেয়ে জরুরি হলো, বেকারত্বকে ব্যক্তিগত অযোগ্যতার তকমা হিসেবে ব্যবহার না করা। দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে হবে, কিন্তু কর্মসংস্থানের সুযোগই সীমিত হলে শুধু তরুণদের প্রস্তুতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে দায় সারা যায় না। রাষ্ট্রকে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দক্ষতা গড়তে হবে এবং নিয়োগদাতাদের নতুনদের সুযোগ দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

শিক্ষিত তরুণেরা দেশের বোঝা নন; তাঁরা উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান শক্তি। তাঁদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বছরগুলো যদি কেবল চাকরির প্রস্তুতি ও ফলের অপেক্ষায় কেটে যায়, তবে ক্ষতি শুধু ব্যক্তির নয়, পরিবার, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রেরও।

যে রাষ্ট্র তরুণদের শিক্ষিত করে, তাঁদের যোগ্যতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করাও সেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তরুণদের শুধু অপেক্ষা করতে বলা কোনো কর্মসংস্থাননীতি হতে পারে না। ‘অপেক্ষার প্রজন্ম’ ভাঙতে হলে সনদের সঙ্গে কাজের সংযোগ, বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থান এবং প্রতিশ্রুতির সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে শিক্ষার আলো জ্বললেও সম্ভাবনার দরজা বন্ধই থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী

শিক্ষিত বেকারত্ব: কেন তৈরি হচ্ছে ‘অপেক্ষার প্রজন্ম’

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

হাতে সনদ, চোখে স্বপ্ন; কিন্তু সামনে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই। বছরের পর বছর চাকরির প্রস্তুতি, একের পর এক আবেদন আর পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় অসংখ্য শিক্ষিত তরুণের মূল্যবান সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। যে বয়সে কর্মজীবন গড়ে ওঠার কথা, সে বয়সেও অনেকে পরিবারের ওপর নির্ভরশীল। প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষা যদি স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুলে দিতে না পারে, তবে শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য কোথায়?

শিক্ষিত বেকারত্ব কেবল চাকরির সংকট নয়। এটি শিক্ষা, শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মধ্যকার অসংগতিরই প্রতিফলন। প্রতিবছর স্নাতকের সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের যোগ্যতা কাজে লাগানোর মতো মানসম্মত কর্মসংস্থান পর্যাপ্ত তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। তরুণদের ভবিষ্যৎ যদি শুধু নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ও ফল প্রকাশের ওপর ঝুলে থাকে, তবে সমস্যাটি ব্যক্তির একার নয়, ব্যবস্থারও।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার ফল ও সনদ অর্জনকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, বাস্তব দক্ষতা অর্জনকে ততটা নয়। ফলে অনেক স্নাতক যোগাযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার, সমস্যা সমাধান ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকেন। নিয়োগদাতারা অভিজ্ঞতা চান, অথচ নতুনদের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ সীমিত। এতে তৈরি হয় এক নিষ্ঠুর চক্র: অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি মেলে না, আবার চাকরি ছাড়া অভিজ্ঞতাও হয় না।

তবে এ দায় শুধু শিক্ষার্থীদের নয়। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে পাঠ্যক্রমের সংযোগ দুর্বল হলে এবং ইন্টার্নশিপ ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকলে সনদধারী বেকারত্ব বাড়তেই থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে চলবে না; শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের উপযোগী করে তোলাও তাদের দায়িত্বের অংশ।

চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত আয় ও সামাজিক মর্যাদার প্রত্যাশা তরুণদের সরকারি চাকরির দিকে টানে। কিন্তু একটি পদের জন্য হাজারো প্রার্থী যখন বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন, তখন প্রশ্ন ওঠে, কর্মজীবনের প্রবেশদ্বার এত সংকীর্ণ কেন?

নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা পরিস্থিতি আরও কঠিন করছে। বিজ্ঞপ্তি, পরীক্ষা, ফলাফল ও চূড়ান্ত নিয়োগের প্রতিটি ধাপে অযৌক্তিক বিলম্ব প্রার্থীদের সময়, অর্থ ও সম্ভাবনা নষ্ট করছে। তাই প্রতিটি ধাপে সময়সীমা নির্ধারণ, অগ্রগতি প্রকাশ এবং বিলম্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

শুধু সরকারি চাকরির প্রতি ঝোঁককে দোষ দিয়েও লাভ নেই। বেসরকারি খাতে ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও পেশাগত উন্নতির সুযোগ নিশ্চিত না হলে স্থিতিশীল চাকরির আকাঙ্ক্ষা কমবে কেন? বিকল্প কর্মসংস্থানকে বাস্তবসম্মত ও মর্যাদাপূর্ণ করাই এখানে মূল চ্যালেঞ্জ।

কাজ পেলেই কর্মসংস্থানের সমস্যা মেটে না। অনেক শিক্ষিত তরুণ নিজের শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কহীন কাজে যুক্ত হন, কেউ স্বল্প মজুরিতে কাজ করেন, আবার কেউ অনিশ্চিত অনানুষ্ঠানিক খাতে আটকে থাকেন। শিক্ষা ও দক্ষতার যথাযথ ব্যবহার না হলে ব্যক্তি যেমন বঞ্চিত হন, তেমনি জাতীয় উৎপাদনশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা, ব্যবসায়িক জটিলতা হ্রাস ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে, যাতে কাজের খোঁজে তরুণদের বড় শহরে ছুটতে না হয়।

প্রশিক্ষণ দিয়েই বেকারত্ব কমানো যাবে না, যদি প্রশিক্ষিতদের জন্য কাজ তৈরি না হয়। দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রথমত, কোন বিষয়ে কতজন স্নাতক হচ্ছেন, কোন খাতে কী দক্ষতার চাহিদা আছে এবং শিক্ষিত তরুণেরা কতটা কর্মসংস্থান পাচ্ছেন, এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। অনুমাননির্ভর পরিকল্পনা দিয়ে শ্রমবাজারের সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে।

তৃতীয়ত, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

চতুর্থত, উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী তরুণদের জন্য অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শসেবা সহজলভ্য করতে হবে।

সবচেয়ে জরুরি হলো, বেকারত্বকে ব্যক্তিগত অযোগ্যতার তকমা হিসেবে ব্যবহার না করা। দক্ষতার ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে হবে, কিন্তু কর্মসংস্থানের সুযোগই সীমিত হলে শুধু তরুণদের প্রস্তুতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে দায় সারা যায় না। রাষ্ট্রকে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দক্ষতা গড়তে হবে এবং নিয়োগদাতাদের নতুনদের সুযোগ দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

শিক্ষিত তরুণেরা দেশের বোঝা নন; তাঁরা উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান শক্তি। তাঁদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বছরগুলো যদি কেবল চাকরির প্রস্তুতি ও ফলের অপেক্ষায় কেটে যায়, তবে ক্ষতি শুধু ব্যক্তির নয়, পরিবার, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রেরও।

যে রাষ্ট্র তরুণদের শিক্ষিত করে, তাঁদের যোগ্যতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করাও সেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তরুণদের শুধু অপেক্ষা করতে বলা কোনো কর্মসংস্থাননীতি হতে পারে না। ‘অপেক্ষার প্রজন্ম’ ভাঙতে হলে সনদের সঙ্গে কাজের সংযোগ, বিনিয়োগের সঙ্গে কর্মসংস্থান এবং প্রতিশ্রুতির সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে শিক্ষার আলো জ্বললেও সম্ভাবনার দরজা বন্ধই থাকবে।