
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক যুবককে মারধর করে পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের পুনিয়ানগর গ্রামে জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আরমান হোসেন সুজন (৩১) ওই গ্রামের চৌধুরী বাড়ির মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
অভিযোগের তীর একই এলাকার ঠাকুর বাড়ির ফজলুল করিমের ছেলে এবং দত্তপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য হুমায়ুন কবিরের দিকে। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাস্তার পাশে গাছের ডাল রাখা নিয়ে আরমান ও হুমায়ুনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় প্রথম দফায় আরমানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জানালে তারা আরমানকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী আরমান চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমায়ুন দুই দিন পর আবারও তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী বিষয়টি পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে জানান। এর জেরে হুমায়ুন আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের।
আরমানের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার সময় হুমায়ুনের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ইট দিয়ে তার পায়ে আঘাত করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডান পায়ে আঘাত করলে তার পায়ের রগ কেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় নতুন কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।
চন্দ্রগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল করিম বলেন, “আরমান ও হুমায়ুনের মধ্যে পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে আগে অভিযোগ হয়েছিল। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 



















