
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহতদের মরদেহ নিতে হিমঘরের সামনে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রিয়জনকে একনজর দেখার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, আবার কেউ নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন হিমঘরের দরজার দিকে।
রবিবার (২২ মার্চ) সকাল থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরের সামনে ভিড় করতে থাকেন নিহতদের স্বজনরা। মরদেহ শনাক্ত ও গ্রহণের প্রক্রিয়া চলায় সেখানে শোকের মাতম বিরাজ করছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্বজনদের কেউ বলছেন, ঈদ উদযাপনের জন্য বাড়ি ফিরছিলেন তাদের প্রিয় মানুষটি, কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা সবকিছু শেষ করে দিল। আবার কেউ অভিযোগ করছেন, লেভেল ক্রসিংয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মরদেহ পর্যায়ক্রমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার (২১ মার্চ) রাত প্রায় ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দৈনিক অধিকার ডেস্কঃ 



















