ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

সিন্ডিকেটের কবজায় ডিজেলের বাজার – বিপাকে কৃষক

সিন্ডিকেটের কবজায় ডিজেলের বাজার, বিপাকে কৃষক ডিজেলের জন্য একটি ফিলিং স্টেশনে কৃষকদের ভিড়।

ঝিনাইদহে ডিজেলের বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি দামে ডিজেল বিক্রির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। এতে বোরো মৌসুমসহ সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলাতেই সরকার নির্ধারিত দামে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত প্রতি লিটার ১০০ টাকার পরিবর্তে খোলা বাজারে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সেচনির্ভর কৃষিকাজে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ডিপো থেকে তেল পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খুচরা পর্যায়ে তা সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না। এ সুযোগে একটি অসাধু চক্র গোপনে ডিজেল মজুদ করে পরে বেশি দামে বাজারে ছাড়ছে। এতে সাধারণ কৃষকদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার বেলেখাল গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দীন বলেন, সার ও বীজের দাম আগেই বেড়েছে, তার সঙ্গে ডিজেলের বাড়তি দাম যোগ হওয়ায় চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই উপজেলার চাপড়ী এলাকার কৃষক আব্দুল রহিম জানান, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিজেল পাওয়া যায় না, তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকলে এ ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ভোগান্তির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করবে না এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন মৌসুমে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

সিন্ডিকেটের কবজায় ডিজেলের বাজার – বিপাকে কৃষক

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ঝিনাইদহে ডিজেলের বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি দামে ডিজেল বিক্রির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। এতে বোরো মৌসুমসহ সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলাতেই সরকার নির্ধারিত দামে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত প্রতি লিটার ১০০ টাকার পরিবর্তে খোলা বাজারে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সেচনির্ভর কৃষিকাজে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ডিপো থেকে তেল পাম্পে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খুচরা পর্যায়ে তা সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না। এ সুযোগে একটি অসাধু চক্র গোপনে ডিজেল মজুদ করে পরে বেশি দামে বাজারে ছাড়ছে। এতে সাধারণ কৃষকদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার বেলেখাল গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দীন বলেন, সার ও বীজের দাম আগেই বেড়েছে, তার সঙ্গে ডিজেলের বাড়তি দাম যোগ হওয়ায় চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই উপজেলার চাপড়ী এলাকার কৃষক আব্দুল রহিম জানান, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিজেল পাওয়া যায় না, তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকলে এ ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ভোগান্তির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করবে না এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন মৌসুমে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।